ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গার্মেন্টস শিল্প

নিউজ ডেস্কঃ

করোনার দুর্দিন কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গার্মেন্টস খাত। ইউরোপ- আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে অর্ডার। চট্টগ্রামের ২৯৪টি গার্মেন্টসে এসব অর্ডারের ভিত্তিতে কাজ চলছে পুরোদমে। ফলে গত অর্থবছরে মুখ থুবড়ে পড়া এই খাতে গতিশীলতা ফিরছে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্টদের।

বিজিএমইএর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিখাত হচ্ছে গার্মেন্টস শিল্প। কিন্তু গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে প্রথমে চীন এবং পরবর্তীতে পুরো বিশ্ব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সরাসরি ধাক্কা লাগে এই খাতে। চীন থেকে এক্সেসরিজ আমদানি বন্ধ এবং ইউরোপ আমেরিকার অর্ডার স্থগিত হওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক খাত মুখ থুবড়ে পড়ে। একের পর এক অর্ডার হারানোর পাশাপাশি গার্মেন্টস কারখানাগুলো দিশেহারা হওয়ার উপক্রম হয়। ইউরোপ আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নাজুক আকার ধারণ করে।

ওই সময় বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক আলাপকালে বলেছিলেন, বিশ্বের প্রায় তিন শতাধিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দেশের গার্মেন্টসগুলোর প্রায় ৩১৫ কোটি ডলারের (প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল করেছে। দেশের গার্মেন্টস সেক্টরকে এত বড় ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সরকারিভাবে প্রণোদনা দেয়াসহ নানাভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতকে সহায়তা করা হয়। কিন্তু করোনা সংকট পুরো বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি নেমে আসে ২৭৯৫ কোটি ডলারে। যা আগের বছরের চেয়ে ৬১৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা কম। এর আগে আর কখনো রপ্তানি আয়ে এত বড় ধস নামেনি। ভয়াবহ রকমের এই পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস খাতের ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের গার্মেন্টসগুলো ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা দেশে পোশাক রপ্তানি করলেও কাঁচামাল আমদানি করে চীন থেকে। ফলে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাব এদেশের গার্মেন্টস খাতকে বড় রকমের বেকায়দায় ফেলে। পরবর্তীতে চীনের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে দেশের গার্মেন্টস মালিকরা কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি শুরু করেন। অপরদিকে ইউরোপ আমেরিকার ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোও ‘নিউ নরম্যালে’ অভ্যস্ত হতে শুরু করে। ফলে দেশের গার্মেন্টসগুলোতে আবার অর্ডার আসতে শুরু করে। স্থগিত হয়ে যাওয়া অর্ডারগুলো পুনরায় ডেলিভারি দিতে বলা হয়। আবার নতুন নতুন অর্ডারও দিতে থাকে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ী নেতা জানান, করোনাকালে এত অর্ডার আসবে আশা করিনি। স্থগিত কিংবা বাতিল হয়ে যাওয়া অর্ডারগুলোও আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। অবশ্য কোনো কোনো ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ডিসকাউন্ট চাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৮০ ভাগেরও বেশি অর্ডার ফিরে এসেছে। এসব অর্ডারের ভিত্তিতে কাজ করতে গিয়ে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস খাতে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে। ইউরোপ আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা দেশের অর্ডারের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে ২৯৪টি গার্মেন্টেসে কাজ চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করে।

বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, স্থগিত বা একেবারে বাতিল হয়ে যাওয়া অর্ডার ফিরতে শুরু করেছে। ফলে এই সেক্টরে স্বস্তি আসছে। তবে কিছু কিছু ক্রেতা নানা ধরনের শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। এছাড়া তারা ডিসকাউন্ট চাওয়ায় বহু গার্মেন্টস মালিক সংকটে থাকবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: