জাতীয় বাজেট প্রকাশ আজ
নিউজ ডেস্কঃ
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপিত হতে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের চতুর্থ বাজেট এটি। বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রীআ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর চতুর্থ বাজেট এটি।
বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশ। এক সময়ে এদেশের আর্থিক অবস্থা ছিলো অত্যন্ত নাজুক। কিন্তু আজ এই দেশ এ পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল এর মতন অনেক মেগা প্রজেক্ট চলমান রয়েছে।
পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে প্রতি বছরই বাড়ছে বাজেটের আকার। সাধারণ মানুষের মূল আগ্রহ থাকে জাতীয় বাজেটেনতুন কী থাকছে, দাম বাড়ছে কোন কোন পণ্যের, আর দাম কমবেই–বা কোন পণ্যের। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা যায়, এবারের বাজেটে প্রাধিকার পাবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামের এবারের বাজেট প্রস্তুত হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং উদ্ভূত বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে।
এবারের বাজেটে সংগত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষি খাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা খাতসহ বেশ কিছু খাতকে। আরো জানা যায় যে , করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিকসরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে । বাজেটবক্তৃতায় এ বিষয়টি উঠে আসবে। তাছাড়া করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর বাস্তবায়নসম্পন্নকরণ, অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন, সারে ভর্তুকি প্রদানঅব্যাহত রাখা, ব্যাপক কর্মসৃজন ও পল্লি উন্নয়ন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ারবিষয়টিও উঠে আসবে।
এবার সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় মোট ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এটা পুরোবাজেটের ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ, আর জিডিপির ২ দশমিক ৬০ শতাংশের সমান। বিদায়ি অর্থবছরের তুলনায় এই ব্যয় ৫শতাংশ বাড়ছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। এবারঅভ্যন্তরীণ কৃষি ও শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্ব দেবেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি খাতে এবাররেকর্ড ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন ও সারে ভতুর্কিতে এই টাকা ব্যয় করা হবে। এর পাশাপাশি বাজেটের আওতায় নগদ দেওয়া হবে আরো ১০ হাজারকোটি টাকা।
অপরদিকে পণ্যমূল্য সহনীয় রাখতে এবং উৎপাদন খরচ কমাতে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি রাখা হচ্ছে ১৮ হাজার কোটি টাকা।পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তায় ভর্তুকি বরাদ্দ থাকছে আরো ৬ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা।
এছাড়া টিসিবির মাধ্যমে বছর জুড়ে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সারা দেশে ১ কোটি পরিবার তথা ৫ কোটি মানুষকে স্বল্পমূল্যে পণ্যসরবরাহ করা হবে। অন্যান্য খাতেও ১৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকির মাধ্যমে সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার চাকাগতিশীল রাখার লক্ষ্য সরকারের। এর জন্য রপ্তানিমুখী শিল্পে নগদ প্রণোদনা খাতে বরাদ্দ থাকছে ৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
এবার সাড়ে ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখারপ্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৬ লাখ ৩হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। বাজেটে মোট রাজস্বআদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। সবমিলিয়ে ঘাটতিই থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটিটাকা।
বাজেট উপস্থাপনের পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার বেলা ৩টায়, বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে আসবেন অর্থমন্ত্রী।করোনা পরিস্থিতিতে গত দুই বছর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এবার সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে বলেজানিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়

