শাবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপনের দাবি অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে ২৫টি বছর পেরিয়ে গেলেও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান করতে না পারায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল সবার মাঝে। এখন সে ক্ষোভ অনেকাংশেই ঘুচে গেছে সিলেটের মধ্যে প্রথম জাতির জনকের প্রতিকৃতি পেয়ে।
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল মান্নান।
শাবির প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতির জনককে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতিকৃতি নির্মাণের উদ্যোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া। গত ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির ১৩৮তম সভায় প্রতিকৃতি নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি পাস হয়। পরে ২৩ জুন বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভায় প্রতিকৃতি নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, গত ১৭ জুলাই প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে ১২ আগস্ট শেষ হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নকশা করেছেন মৌলভীবাজারের স্থাপত্য শিল্পী শেখ নাঈম উদ্দিন টিপু। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি বানানো হয়েছে সিরামিক টাইলস দিয়ে। এর উচ্চতা ৬ ফুট বাই ১০ ফুট, আর মূল চত্বর ৪৭ ফুট বাই ২৫ ফুট।
প্রতিকৃতি উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মান্নান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন রাজনৈতিক কর্মী থেকে নেতায় পরিণত হন। পরে বাঙালি জাতির প্রতি তার অসামান্য অবদানের কারণেই তিন রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। যা খুব কম নেতার ভাগ্যেই জোটে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বলতে পারেন ‘আমিই রাষ্ট্র ।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীকে আমরা এক্সট্রা কারিকুলাম, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও ক্লাস-পরীক্ষার মধ্যে রাখতে চাই।তিনি বলেন, দেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রক্ত দিয়েছে, তাই জঙ্গিবাদ এদেশে বেশি দূর যেতে পারবে না।
ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ এবং লালন করতে শাবিতে প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। আজ দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস এবং প্রতিকৃতি স্থাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. রাশেদ তালুকদার। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

