পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হবে লিখিত পরীক্ষায়!
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক:
দেশের ৩৮টি পাবলিক বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হতে এখন থেকে মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষাও দিতে হবে। এছাড়া নিয়োগের আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশন (ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই) করা হবে।
সহজে মেধা যাচাই ও অনিয়ম কমাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে পাওয়া গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) এসব নির্দেশনা দিয়েছে, যা বুধবার প্রকাশ পেয়েছে।
ইউজিসি সচিবকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘ইদানীং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ অনভিপ্রেত অবস্থার সমাধানকল্পে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে থেকে পাওয়া গোয়েন্দা বিভাগের গোপনীয় প্রতিবেদনে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্যেব দুটি সুপারিশ করা হয়েছে।’
সুপারিশ দুটি হলো- শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়, এতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রার্থীর মেধা যাচাই করা সহজ হবে এবং অনিয়মের সুযোগ হ্রাস পাবে।
অপরটি হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের পূর্বে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন বা গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক ব্যক্তিগত তথ্যাদি যাচাই হয় না। ফলে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তি বা অপরাধীরা নিয়োগের সুযোগ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে নিয়োগ করা যাবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ দু’টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিবের কাছে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে সংশোধিত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এসব নির্দেশনা অনুসরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে ইউজিসিকে অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

