হাবিপ্রবিতে উপাচার্য না থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় দেশের উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। চারমাস ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টাররোলে কর্মরত প্রায় ১’শ কর্মচারীর বেতন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর রুহুল আমীন গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর বিদায় নেন। এই পদ থেকে বিদায় নেয়ার ফলে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভাইস চ্যান্সেলর পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদটি শূন্য থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ভর্তি কমিটির সভাপতি প্রফেসর মো. সাইফুর রহমান জানান, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৮, ১৯ এবং ২০ তারিখে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই ভর্তি পরীক্ষায় ৮টি অনুষদে ১ হাজার ৯৫৫টি আসনে ভর্তির জন্য মোট ৯৬ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তিনি জানান, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং পরীক্ষার পরবর্তী তারিখও নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেশন জটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, শুধু ভর্তি পরীক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সেমিস্টার পরীক্ষাগুলোও ঠিকমত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না ভাইস চ্যান্সেলরের অভাবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় আর্থিক দিকগুলোতে স্বাক্ষর করার ক্ষমতা একমাত্র ভাইস চ্যান্সেলরের। কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালযের আথিক কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদাররা কাজ করেও বিল না পাওয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজগুলো বন্ধ রয়েছে। আর ভাইস চ্যান্সেলরের অভাবে মাস্টার রোলে কর্মরত প্রায় ১’শ কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টাররোলের ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারী নঈমুল ইসলামের সাথে আলাপ করে জানাযায়, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় দীর্ঘ ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তিনি। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হচ্ছে তার। তিনি জানান, এই অবস্থা শুধু তার একার নয়, প্রায় ১’শ জন কর্মচারীর একই অবস্থায় দিন কাটছে।
ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানও বন্ধ রয়েছে এবং অনুষ্ঠিত হচ্ছে না শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিসারিজ বিভাগের মাস্টার্স পর্বের ছাত্র মাঈনুদ্দিন আহমেদ জানায়, একটি বিশ্ববিদ্যায়ের প্রাণ হচ্ছেন ভাইস চ্যান্সেলর। কিন্তু দীর্ঘ দিন থেকে ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর এরকম অবস্থার মধ্যে কখনও পড়তে হয়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। তাছাড়া দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস ধরে ভাইস চ্যান্সেলর শূন্য থাকার নজির দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই।
এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রয়েছেন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। কারণ কবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে-তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কেউই। তারা জানান, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে ভালভাবে জানেন। আমরা আশা করি এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান দিবেন।’

