পুরো নাম না জানায় রাবিতে শিক্ষার্থীকে পেটালো ছাত্রলীগ

রাবি প্রতিনিধি:
পুরো নাম না জানায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিলু হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শামসুজ্জোহা হলে ৩১৬ নম্বর কক্ষে থাকেন। অন্যদিকে, মারধরের অভিযোগ ওঠা বোরজাহান আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শামসুজ্জোহা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

শিলু হোসেন বলেন, “আজ ফারুক হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্রলীগের কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য ডেকে যায়। এরপরে ওই হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বরজাহান আমার কক্ষে আসে। আমি বললাম, একটি বই পড়ছি, দুই-এক মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে, শেষ করেই আসছি। তখন ওই নেতা বলে, ‘আমাকে চেন?’ আমি বলি, চিনি। আমাকে তার নাম বলতে বললে আমি বলি, বরজাহান। কিন্তু ‘বোরজাহান আলী’ না বলায় বলায় সে আমার মাথায় ও পেটে কিল-ঘুষি মারে।”

জানতে চাইলে বোরজাহান আলী বলেন, ‘আজকে আমাদের কর্মসূচি ছিল, কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমাদের ছেলেপেলে গিয়ে ডেকে আসে। আমিও পরে ডাকতে গেছি। শিলুকে ডাকতে গেলে ও আমার সাথে বেয়াদবি করেছে। তাই আমি তাকে ধাক্কা দিয়েছি, মারিনি।’

এদিকে, কর্মসূচিতে আসা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব হলেই শিক্ষার্থীদের বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন হলের সামনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে আছেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বের হলে তাদের আটকানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কোনও কর্মসূচি থাকলে শিক্ষার্থীদের কক্ষে গিয়ে তাদের জোর করে কর্মসূচিতে নিয়ে আসা হয়। কর্মসূচিতে আসতে না চাইলে তাদের বিভিন্ন হুমকি দেওয়া হয়। কর্মসূচিগুলোতে বড় মিছিল নিয়ে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হলগুলো ছাত্রলীগের প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করার প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমি প্রত্যেক হলের নেতাকর্মীদের বলে এসেছি, কাউকে জোর করে অনুষ্ঠানে আনা যাবে না। শিক্ষার্থীদের আসার জন্য বলবে, শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় আসলে ভাল, না আসলে সমস্যা নাই। তারপরও এরকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আমি তাদের সঙ্গে আমাদের অনুষ্ঠান শেষে বসবো, বসে বিস্তারিত জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •