কুবিতে শিক্ষকদের চক্র মানববন্ধন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে চক্র (সার্কেল) মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে গত বুধবার থেকে উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছেন শিক্ষকরা।
জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য সিন্ডিকেট ও আত্মীয়করণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে গত ৭ মার্চ উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি।
৮ মার্চ বুধবার উপাচার্য তার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে তাকে বাধা দেনেে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে তিন কার্যদিবস কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আলী আশরাফ কার্যালয়ে আসেননি। উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত দাবি করে তার সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আপত্তি করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির বাধার মুখেও উপাচার্যের বাসভবনে গত শুক্রবার ৬৫তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান সভায় যোগদান করতে আসলে শিক্ষকদের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। শিক্ষক সমিতি দাবি করে, ঐ দিন উপাচার্য শিক্ষকদের সন্ত্রাসী আখ্যোয়িত করেন এবং তার ভবন টপকে চুরির অভিযোগ দেন বলে অভিযোগ করে শিক্ষক সমিতি।
েেশিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহেদী হাসানের উপাস্থাপনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের সভাপতি ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ড. জি এম মনিরুজ্জামান ও সাবেক সভাপতি এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু পরিষদের বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল হকসহ শিক্ষক নেতারা।
এ সময় শিক্ষকরা বলেন, উপাচার্য দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষকদের অপমান করছেন। বারবার শিক্ষকরা হামলার শিকার হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ৬১ জন শিক্ষক নিরাপত্তার প্রশ্নে থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও প্রশাসন চুপ রয়েছে। মানববন্ধনে শিক্ষকরা অবিলম্বে উপাচার্যের জরুরী অপসারণ দাবি করে বলেন, এ অবস্থায় উপাচার্যের চলে যাওয়া বা অপসারণ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো: আবু তাহের বলেন, ‘উপাচার্য শিক্ষকদের প্রতিনিয়ত অপমান করছেন। তিনি নিয়োগে দুর্নীতিসহ নানান অনিয়ম করছেন। শিক্ষক ও ছাত্ররা এ ক্যাম্পাসে অনিরাপদ। এ অবস্থায় শিক্ষক সমিতি তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। তাকে আর অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আশরাফ বলেন, ‘শিক্ষকদের সকলে এ আন্দোলন করছেন না। কতিপয় শিক্ষক এ অযৌক্তি দাবি করছেন।’

