জাবির গাড়ি ভাঙার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ফুল নিয়ে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দ্বিতীয় বারের মত রবিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস ভাঙার প্রতিবাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোন গাড়ি না ভাঙা এবং এর অবসানের জন্য ফুল নিয়ে প্রতীকী মানবন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করতে করতে দেখা গেছে।

এই বাস ভাঙ্গার সূত্রপাত হয় গত শনিবার টিএসএসি থেকে ঢাবি কতৃক জাবির বাস ভাঙ্গার মাধ্যমে। অধিভুক্ত হওয়া রাজধানীর ৭টি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন এমন খবরের প্রতিবাদে শনিবার রাস্তায় নেমে আসে ঢাবি শিক্ষার্থীরা।
এসময় জাবির একটি বাস টিএসসিতে অবরোধের মধ্যে ঢুকে পড়লে ঢাবির শিক্ষার্থীরা ওই গাড়িটি ভাঙচুর করে।

এর জের ধরে রবিবার সাভারগামী ঢাবির হেমন্ত বাসটি জাবির জয় বাংলা গেইটে পৌঁছালে ১০-১২জন শিক্ষার্থী এতে হামলা চালায়। এতে বাসটির সামনের গ্লাস এবং সাইড গ্লাসগুলো ভেঙে যায়।

পরে আবার ঢাবি শিক্ষার্থীরা রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জাবির বিআরটিসির ভাড়া করা ২টি বাস ভাঙচুর করে। এমন বাস ভাংচুরের অবসান ঘটাতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ফুল হাতে রাস্তায় নেমে আসে।
তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা এই নোংরা কাজের অবসান চান। এ বিষয়ে মানববন্ধনের আয়োজক রাকিব হায়দার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস জনগনের টাকায় কেনা। এসব বাস ভাঙ্গার মাধ্যমে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। কিছু কতিপয় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ঘটছে। আমাদের বাস ভাঙার প্রতিবাদে আমরা আর কোন ঢাবির বাস ভাঙার পক্ষে না। তাই আমরা তাদের অভিবাদন জানাতেই রাস্তায় ফুল নিয়ে দাঁড়িয়েছি। জনগণের টাকা নষ্ট করার জন্য আমরা দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি গাড়ি ভাঙা কাজ হতে পারে না।

লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, সহিসংতার জবাব কখনো সহিসংতা হতে পারে না। আমরা ঢাবির শিক্ষার্থীদের সৌজন্যতা দেখাতেই ফুল নিয়ে রাস্তায় এসেছি। এদিকে এমন পাল্টাপাল্টি গাড়ি ভাঙার কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বাস ও ঢাবির সাভার রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগরের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করি শিগগিরই বিষয়গুলো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। বর্তমানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চলাচলই বন্ধ রয়েছে ’।

  •  
  •  
  •  
  •