রাবিতে পদত্যাগের হিড়িক

রাবি প্রতিনিধি:

অধ্যাপক আব্দুস সোবহান উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে । রেজিস্ট্রার, গ্রন্থাগার প্রশাসক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও প্রক্টরের পর এবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মশিহুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় তিনি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীর কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগের বিষয়ে রেজিস্ট্রার ড. এম এ বারী বলেন, জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে উপাচার্য পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনিই দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে সকালে রেজিস্ট্রার বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

এর আাগে গত ৭ মে অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ১৫ ঘণ্টার মাথায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক। পরে ১ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ বারীকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি এর আগেও উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের প্রথম মেয়াদে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর গত ১৪ জুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রশাসক অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী পদত্যাগ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পে (হেকেপ) অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে ২ জুলাই উপাচার্য হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুভাষ চন্দ্র শীলকে গ্রন্থাগার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন।

এরপর গত ৩ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আসাবুল হক। ২০১৬ সালের ৩০ জুন ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর এক বছরের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকাশ করার প্রদক্ষেপ নেন এ শিক্ষক।

এছাড়াও গত ৬ আগষ্ট একইভাবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন প্রক্টর অধ্যাপক মজিবুল হক আজাদ খান। তবে তার পদত্যাগের ৪ ঘন্টার মাথায় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানকে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেন। সর্বশেষ গতকাল রবিবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মশিহুর রহমান।

প্রসঙ্গত, পদত্যাগ করা এ পাঁচজন প্রশাসকই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহানের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবিষয়ে জানতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মিটিং থাকায় তারা সময় দিতে পারেননি।

  •  
  •  
  •  
  •