আন্দোলনে উত্তাল বাকৃবি, শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
আন্দোলনে উত্তাল বাংলাদেশ কুষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। বিভিন্ন দাবীদাবা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার ও কর্মচারীদের তুমুল অান্দোলনে উত্তাল পরিবেশ। জাতীয় বেতন স্কেল’২০১৫ বাস্তবায়ন ও পদোন্নয়নের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার পরিষদ গত জুন থেকে আন্দোলন করে আসলেও ঈদের ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দিন থেকে নতুন করে আন্দোলনে নামেন কমর্চারি ঐক্য পরিষদ ও কর্মকর্তা পরিষদ। আন্দোলনের ধরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। বিঘ্নিত হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ। মাইকের উচ্চশব্দ, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতী শিক্ষা বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষায় মরাত্বক সমস্যা সৃস্টি করছে, বন্ধ হয়ে আছে প্রশাসনিক কাযর্ত্রম ।
জানা যায়, এডহক ও পদের বিপরীতে নিয়োজিত এমআর কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ, পদবিহীন এমআর কর্মচারীদের দ্রুত পদ প্রদর্শন কমিটির মাধ্যমে শূন্য পদের বিপরীতে প্রদর্শনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাগিদ দিলেও তার কোন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভুক্তভুগিরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনধরে এমআর ও এডহোক ভিত্তিতে কাজ করে যাওয়া এসব কর্মচারীদের চাকরী স্থায়ীকরনের আশ্বাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের চাকরী স্থায়ীকরনে কোন ভরসা না থাকায় উদ্বিগ্ন তারা। এছাড়া সস্প্রতি মৌসুমি শ্রমিক নিয়োগ ও স্থায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবীদাবা ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিলম্ব করায় এবং কথা দিয়ে কথা না রাখায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেই মত ব্যাক্ত করেন।
এদিকে মাসের পর মাস কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মাইকের আওয়াজে ক্লাসে পাঠদানে সমস্যা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা। দাবী যৌক্তিক হলে তা দ্রুত সমাধান করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা উচিত বলে মনে করেন তারা।
উল্লেখ্য যে, জাতীয় বেতন স্কেল’২০১৫ বাস্তবায়ন ও পদোন্নয়নের দাবিতে গত জুন থেকে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার পরিষদ। আন্দোলনে পর দাবি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্কেল বাস্তবায়ন কমিটি ও স্টান্ডিং কমিটি গঠন করে। ৩১ আগস্ট কমিটির প্রতিবেদন জমা দেবার কথা থাকলেও অফিসাররা ২০ আগস্ট সময় বেঁধে দেন। অফিসারদের দেয়া সময় পার হলে ২১ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামে তারা। দাবি আদায় না হওয়ায় ঈদের পর কর্মচারীদের নিয়ে আবার আন্দোলনে নামেন কর্মকর্তারা।

