হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর এক অভিনব ‘তুষ-হারিকেন পদ্ধতি’ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক:

হাঁস বা মুরগির ডিম থেকে কৃত্রিমভাবে বাচ্চা ফোটানোর জন্য বিভিন্ন হ্যাচারি শিল্পে সাধারণত বড় বড় ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ। ব্যয়বহুল আর সহজলভ্য না হওয়ায় সাধারণ খামারিরা এটি ব্যবহার করতে পারেন না। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য যে তাপমাত্রা প্রয়োজন হয় তা ইনকিউবেটরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

ইনকিউবেটরের মাধ্যমে একসাথে অনেকগুলো ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে হাওড় অঞ্চলের খামারিরা তৈরি করেছেন অভিনব এক পদ্ধতি যার নাম ‘তুষ-হারিকেন পদ্ধতি’। এই পদ্ধতি হাওড় অঞ্চলের খামারিদের হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহের পথকে সুগম করে দিয়েছে। ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর এই প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে গ্রাম্য বাংলায় প্রাপ্ত সব দেশীয় উপাদান, ফলে এই প্রযুক্তি দামে যেমন সস্তা তেমনি ফলপ্রসূ।

উৎপাদন-পদ্ধতি:
ডিম ফোটানোর জন্য ব্যবহূত হয় স্থানীয়ভাবে ‘সিলিন্ডার’ নামে পরিচিত বিশেষ পাত্র, ডিম রাখার মাচা এবং উৎপাদিত হাঁসের ছানা রাখার জায়গা। কাঠ, বাঁশ ও টিন দিয়ে ওই বিশেষ পাত্র ও মাচা তৈরি করা হয়। এ ছাড়া প্রয়োজন হয় তুষ, হারিকেন, লেপ, রঙিন কাপড়সহ আনুষঙ্গিক কিছু উপকরণ। ডিম সংগ্রহের পর জীবাণুনাশক দিয়ে সেগুলো ধুয়ে বাছাই করে রোদে শুকানো হয়। এরপর ডিমগুলো রঙিন কাপড়ের থলেতে নির্দিষ্ট পরিমাণে ভরে সিলিন্ডারের ভেতরে রাখতে হয়।

এক সিলিন্ডারে ডিম ও অন্য সিলিন্ডারে হারিকেন রেখে প্রতি তিন ঘণ্টা পর পর তাপ এবং তাপবিহীন অবস্থায় লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া ১৭ দিন ধরে চলে। এরপর ডিমগুলো মাচার ওপর সাজিয়ে হালকা কাপড়ে ঢেকে ১১ দিন রাখা হয়। ১২ দিনের মাথায় একের পর এক ডিম ফুটে হাঁসের ছানা বেরোতে থাকে। এভাবে ডিম ফোটাতে ২৮ দিন লাগে।

 

‘তুষ-হারিকেন পদ্ধতি’ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন ভিডিওতে

 

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: