কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়ায় বাকৃবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
‘জঙ্গি ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস নির্মাণ, ছাত্রলীগের অবদান’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ বুধবার প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ছাত্রলীগের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী দিনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসা, আসন্ন নির্বাচনসহ নানা কারণে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা। প্রায় তিন বছর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে আশরাফুল হক হল, শাহজালাল হল ও কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ শাখার কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে যাত্রা শুরু করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊন-সত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃ-প্রতীম এ সংগঠন। সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী এ সংগঠন পরিচিত পায় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ হিসেবে। আর ছাত্রলীগের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ইউনিট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ।
সকাল ১০টার দিকে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সম্মেলন শুরু হয় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলানায়তনে হল সম্মেলনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর।
সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সবুজ কাজী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে তার সবগুলোতেই ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কারণেই আজকের এই বাংলাদেশ। শুধু লড়াই সংগ্রাম নয় অসহায় দুঃস্থ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে থেকেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী কর্মী হিসেবে সবাইকে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। এ ছাড়াও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
হল সম্মেলনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন ছাত্রীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। মেয়েদের ৪টি হল থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে থাকলে প্রথম দিকে বেগ পেতে হয় আয়োজকদের। পরে অবশ্য সবার সিট হয়। হলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বর্তমান ছাত্রলীগের ভূয়সী প্রশংসা করেন ছাত্রীরা। তারা বলেন, বিভিন্ন কারণে এক সময় বাকৃবি ছাত্রলীগে তারা আসতে চাইতেন না। কিন্তু বর্তমানে এটির পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা স্বতস্ফূর্তভাবে এখন অংশগ্রহণ করছেন, শাখা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন। সামনে হল কমিটিতেও যোগ্য কর্মীরাই স্থান পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ছাত্রীরা।
এদিকে সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসার কথা থাকলেও তারা আসেননি। অনেক আগে থেকেই র্কাড ছাপিয়ে দাওয়াতপত্র বিলি করেছিল ছাত্রলীগ, ব্যানারেও তাঁদের নাম লেখা ছিল। সেখানে তাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম উল্লেখ ছিল। এতে মনক্ষুন্ন হতে দেখা গেছে সোহাগ-জাকির অনুসারীদের। তবে কেন তারা আসলেন না এ বিষয়ে বাকৃবি ছাত্রলীগের কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা সামলানোর জন্যই তারা ঢাকা থেকে আসতে চেয়েও আসতে পারেননি।

