কুবিতে পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা গ্রহনের দাবি শিক্ষার্থীদের
এস এম জোবায়ের, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামোতে অর্থমন্ত্রীর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ ও অন্যান্য অসঙ্গতি দূরীকরণে দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন দেশের ৩৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করছেন সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। আর সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাত্ত্বতা প্রকাশ করে কর্ম বিরতিতে আছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। শিক্ষকদের এই কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়ছে ক্যাম্পাস। হচ্ছেনা ক্লাস ও পূর্ব নির্ধরিত পরীক্ষা।
শিক্ষার্থীদের অনুরোধ ও তাদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে কর্মবিরতি চলার সময়ে কেবল চূড়ান্ত পরীক্ষা গুলো গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এ অবস্থায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিকে পরীক্ষা গুলো আন্দোলনের মধ্যে নেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে টানা ছয় দিনের এই কর্মবিরতিতে ২৫টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্তগিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল কবির চৌধুরী। কর্মবিরতির ছয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।এ নিয়ে সেশন জটের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী।
ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বিশ্বাস ইয়াছিন বিশ্বাস মনে করেন, ‘ শিক্ষকরা মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের এ আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তুু পূর্ব নির্ধারিত চূড়ান্ত পরীক্ষা গুলো নেয়া উচিত। তাহলে সেশন জট কিছুটা হলেও কমে আসবে।’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান কমল বলেন, ‘ আগামিকাল মঙ্গলবার আমাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা । কিন্তুু হবে কিনা দুটানায় আছি। আর পরীক্ষা হলে এই অবস্থার মধ্যে পরীক্ষা ভাল হবে বলে মনে হয়না।’বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম রনি বলেন, ‘২টি পরীক্ষা হওয়ার পরপরই শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বন্ধ হয়ে যায় অন্য পরীক্ষা গুলো । এই মাসে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা কিন্তু শেষ হবেনা।’
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসাইন শাকিল বলেন,‘ শিক্ষক আন্দেলনের কারনে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। প্রধান মন্ত্রী শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে আমাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখবেন সেটি আমরা প্রত্যাশা করি।’চূড়ান্ত পরীক্ষা গুলো আন্দোলনের আত্ততা মুক্ত রাখতে অনড় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আইনুল হক বলেন, ‘আমরা চাই ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। সে ক্ষেত্রে সরকারকে আমাদের দাবির ব্যাপাওে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের সম্মান ফিরে না পাওার পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরছি না। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে”।
উল্লেখ্য গত ৩ জানুয়ারি থেকে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা কালোব্যাজ ধারণ করে কøাসে প্রবেশ করেন। ৭ জানুয়ারি থেকে স্ব স্ব ক্যাম্পাসে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। ১১ জানুয়ারি থেকে একাধারে কর্মবিরতি পালন করছেন।

