তানোরে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত পাঠদান

তানোর সংবাদদাতা:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ১২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৪৯টি ও সহকারী শিক্ষক পদে ১১০টি পদশূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এঅবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে দায়সারা ভাবে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা কোচিং নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলাতে ১২৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ১২৭টি পদের মধ্যে ৪৯টি দীর্ঘদিন থেকে শূন্য রয়েছে। আর সহকারী শিক্ষক -শিক্ষিকার অনুমোদিত ৬২২টি পদের মধ্যে ১১০ টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য আছে।

একাধিক প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ১৫৯টি পদ শূন্য থাকায় অনেক শিক্ষক নির্ধারিত ক্লাসের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এঅবস্থা চলতে থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

এনিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বদিউজ্জামান জানান, ২০১০ সাল থেকে পদ উন্নতি না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। আর সহকারী শিক্ষক দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে শূন্যপদের বিপরীতে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ে ছেলে মেয়েদের ঠিকমত লেখা পড়া না হওয়ার কারণে বাধ্য আমাদেরকে সৃজনশীল অনুশীলনমূলক বই বাজার থেকে কিনে ছেলে মেয়েদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। তারা সরকারের প্রতি দাবী জানিয়ে বলেন, শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার সুযোগ করে দিবেন।

এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনীরুজ্জামান ভুঁঞা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ে শূন্য পদের বিপরীতে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত শূন্য পদ গুলো পূরণ হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: