স্বপ্ন যাদের আকাশ ছোঁয়া
তন্ময় বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ।
গত ৩ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস । নবীন সব শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বশেমুরবিপ্রবি’র গোটা ক্যাম্পাসের সবুজ প্রাঙ্গণ এখন উৎসবমুখর । ক্যাম্পাস যেন ফিরে পেয়েছে ভিন্ন প্রাণ ।
ক্যাম্পাসের আনন্দময় জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সব সময়ের সঙ্গী বন্ধুরা । যদিও স্কুল-কলেজের পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে প্রথম কয়েকদিন মন কেমন কেমন করে । আমরা হাজার মাইল দূর থেকে একটি নতুন পরিবারে এসেছি । কিন্তু তাতে কী! এত ছাত্রছাত্রীর মধ্যে কারও না কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব তো হবেই ।
এভাবেই অনুভূতি জানিয়েছেন কিছু শিক্ষার্থী । পড়াশোনার তেমন চাপ থাকে না প্রথম দিকে । নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ পেয়ে জমজমাট সব আড্ডা । বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সব চত্বর, জয় বাংলা চত্বর, হাসিনা চত্বর, হলগেইট, সোবহান সড়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং ক্যান্টিনসহ কোথাও আড্ডার অন্ত নেই । ক্লাসে বসে অথবা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শুরু হয়ে যায় গল্প ।
কূলকিনারাবিহীন সেসব কথামালা । নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, বাংলাদেশের শান্তিনিকেতন । বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়; যেখানে প্রকৃতির সব ঐশ্বর্য বিদ্যমান । ঢেউ খেলানো মেঠো রাস্তাঘাট, সুবিশাল মাঠ, ছাতিম ও কাঠবাদাম গাছের সারি আর নাম না জানা গাছপালা ও ফুলের ইন্দ্রজাল ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই তারা নতুন স্থানে আসায় একটু ইতস্তত বোধ করলেও এসব নবীন শিক্ষর্থীর স্বপ্ন দিগন্ত জোড়া । আর তা হলো পরিবারের, দেশের, সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া । উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সুখ-দুঃখের মাঝেই কেটে যাবে তাদের জীবন রয়ে যাবে শুধু স্মৃতি আর কৃতী । নবীন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে কিছু ভালো স্মৃতি নিয়ে সারা জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে ।
একাডেমিক শিক্ষাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয় । বিশ্ববিদ্যালয়ে আড্ডার মাধ্যমে উঠে আসে গঠনমূলক, সৃজনশীল সব কথাবার্তা । আড্ডার মাধ্যমে বিভাগের বিভিন্ন কোর্সের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনকে কিভাবে গড়ে তুলবেন সেই দিকে মনোযোগী হবেন ।
জীবনের খারাপ দিকগুলোকে দূরে ঠেলে দিয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে শুধু শিক্ষিত না হয়ে সুনাগরিক হিসেবে দেশগড়ার কাজে মনোনিবেশ করবেন এটাই হোক নবীনদের প্রত্যাশা ও প্রতিজ্ঞা ।

