শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ

আসাদুজ্জামান রিফাত, রাবি সংবাদদাতা:
বর্ধিত ফি ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সেখানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

রাবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিলা খাতুনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, রাবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তমাশ্রী দাস, বাংলা বিভাগের তাসনুবা তাহরিন অন্তরা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ফারুক ইমন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আয়াতুল্লাহ খোমেনি, অর্থনীতি বিভাগের প্রদীপ মার্ডি প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাবিতে বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলা করে। নায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি রাবি প্রশাসন। আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ে করে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে।

এ ব্যাপারে বারবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ইতোমধ্যে মামলার আসামি শিক্ষার্থীরা অনেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেছে। মামলার কারণে তাদের চাকরি জীবন এখন হুমকির সম্মুখীন। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা মামালার কারণে ভীতির মধ্যে দিন যাপন করছে বলেও জানান বক্তারা।

সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বরাবর তিন দফা দাবি সম্বলিত একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- বানিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স ও বর্ধিত বেতন ফি বন্ধ করতে হবে, নতুন কোনো বিভাগে বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স চালু করা যাবে না এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার বর্ধিত ফি ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর একযোগে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ।

এতে সাংবাদিকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর পর থেকে প্রতিবছর ২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা-বাণিজ্য প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে শিক্ষার্থীরা।

  •  
  •  
  •  
  •