বাকৃবি’র দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কৃষি শিক্ষায় দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল। দীর্ঘদীনের অব্যবস্থাপনা থাকলেও করোনাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবী উঠে বিভিন্ন ভাবে। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে করোনাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জোড় প্রচেষ্টা চালনো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং কিছু শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথটি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধানের অভাবে আবাসিক এলাকার অভ্যান্তরে বহিরাগতদের প্রবেশ বেড়ে গেলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে এবং করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল রাস্তটি বন্ধ করে দেওয়া এবং আবাসিক এলাকায় ঢুকতে প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন রাস্তটি দিনের একটি সময় নিয়ন্ত্রণ করায় অবাসিক এলাকায় বহিরাগতদের বিচরণ কমে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য জায়গায় বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ অব্যাহত রয়েছে। মাঝেমধ্যেই মটরসাইকেল, গাড়ী ও অটোরিক্সায় ভরে যায় কিছু কিছু জায়গা। বিশেষ করে জব্বারের মোড়, ইয়াসিন মার্কেটসংলগ্ন এলাকা, রেললাইন সংলগ্ন জায়গা, আমবাগান ও ফার্ম এলাকাগুলোতে ছুটির দিন বহিরাগতদের বিচরণ বেশী থাকে। ভীড় জমানো, ছবি তোলা, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলানো, নেশাকরাসহ নানধরনের অপকর্ম করতে দেখা যায়। কিছুকিছু ক্ষেত্রে চুরির ঘটনাও ঘটে। কখনও কখনও বিনা’র পিছনে গাড়ি নিয়ে ফার্মের ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায় বহিরাগতদের। এসব দৃশ্য দিনে বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে রাত ৮-৯ টা পযর্ন্ত কমবেশী দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে আশেপাশের লোকদের তুলনায় দুরদুরান্ত থেকে বখাটেদের সমাগম বেশী হয় এসব জায়গায়।

এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বললে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো দেখার কথা বললেও বাস্তবে তার কোন ফলাফল দেখা যাচ্ছে না।

বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষা ও গবেষণার জায়গা এখানে অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে একদিকে যেমন আতংকিত করে রেখেছে অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য স্বাধীনভাবে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে। কিছু কিছু পরিস্থিতিতে নিজের ক্যাম্পাসে বহিরাগতই মনে হয়। মাঠ পর্যায়ে গবেষণা প্লট ও সন্নিবেশিত সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষন বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত বিচরণে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণে মাঠ পর্যায়ের গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যদিও এ অবস্থা দীর্ঘদিনের তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের শক্ত অবস্থান, সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রবণতা এবং দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্যদের সাথে মতবিনিময় করে কাজ করার চেষ্টায় এ অবস্থা থেকে আবাসিক এলাকায় অনেকটাই পরিত্রাণ পাওয়া গেলেও অন্যান্য জায়গায় দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছেনা।

সম্প্রতি আমবাগান এলাকায় উপাচার্যের অনুমতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সেখানকার দায়িত্বরত কিছু নিরাপত্তাকর্মীর আন্তরিক সহযোগিতায় বেরিগেট দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা করলেও কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরং এবং কিছু নিরাপত্তাকর্মীর কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে এটির শতভাগ সুফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে দায়িত্বরত (সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪ টা পযন্ত) পরিদর্শনকারীদের সঠিককভাবে দায়িত্বপালন না করতে দেখা গেছে।

জনবল সংকটের কথা শোনা গেলেও যারা দায়িত্বরত তাদের সামনেই এসব ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। নিরাপত্তাকর্মীর সামনে বহিরাগতারা ঘোরাফেরা বা অনৈতিক কাজ করলে বাধা দেওয়া বা জিজ্ঞেস করা হয় না। প্রধান নিরাপত্তা অফিসের আশে পাশে এমনকি সামনেও বহিরাগতদের ভীড় জমতে দেখা যায়। অনেকসময় নিরাপত্তার পোশাক পরিধান ছাড়াই কর্মস্থলে অবস্থান এবং দায়িত্ব পালন ছেড়ে চা খেতে ও গল্প করতে দেখা যায় কিছু নিরাপত্তাকর্মীদের।

অনেক পরিদর্শনকারী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় রক্ষীরা কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পান এবং কিছু কর্মীর দোষের দায় পুরো নিরাপত্তার উপর দেওয়া হয় বলেও অনেকেই মতামত দেন।।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম পাঁচতলা সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় ঢোকার রাস্তায় দাড়িতে থেকে সহযোগিতা করতে দেখা গেলেও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে (বর্তমানে খন্ডকালীন) বাহিরে মনিটরিং বা দায়িত্ব পালন করতে তেমন দেখা যায় না (করোনার আগেও তাকে সেভাবে দেখা যায়নি বলে অনেকে অভিযোগ করেন)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেকসময় পরিদর্শনকারী ও রক্ষী কর্মস্থলে না থাকা, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। কর্তব্যে অবেহেলা বা কাজে ফাঁকি দিলেও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা তার অনুগতদের (নিজের লোক বলে পরিচিত) বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিধি সম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ পাওয়া যায় যেটি অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনাকাঙ্খিত হুমকির সম্মুখীন হলে সহযোগিতা পান না বলেও জানান। ফলে যারা দায়িত্ব পালনে আন্তরিক তারা মনোবল হারিয়ে কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। এসবের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে বলে অনেকেরই মনে করেন।

বিভিন্ন সরকার ও প্রশাসনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাবানদের তৈলমর্দন বা খুশি রাখা, জি স্যার- ইয়েস স্যার- দেখছি স্যার ও সব ঠিক আছে স্যার- এসব কথা বলে সময় পার করেছেন প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ মহিউদ্দিন হাওলাদার। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনকে সমস্যার প্রকৃতচিত্র তুলে না ধরে সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত রাখার ফলে দিনে দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবনতি হয় বলেও অনেকে জানান।

বর্তমানে তিনি পিআরএল এ থাকলেও খন্ডকালীন নিয়োগ পেয়ে একইভাবে সময় পার করছেন। অনুমানিক ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বেতন ও খন্ডকালীন নিয়োগ বাবদ ৩৩,০০০/- প্রতিমাসে সরকারের কোষাগার থেকে পাচ্ছেন এই কর্মকর্তা। জানা যায়, তিনি যখন যাকে প্রয়োজনে ব্যবহার করে নিজের সর্বোচ্চ প্রমোশন সহ নানা সুযোগ সুবিধা বিভিন্ন সরকারের সময় ভোগ করে চলেছেন। এমনকি ছাত্র নেতাদের ব্যবহার করে সুকৌশলে নিজের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছেন বলে সাবেক এক নিরাপত্তা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে এবং শহরের দু- একটি জায়গায় একসময় অনেক জমাজমি কিনেছেন এবং কিছু বিক্রি করছেন বলেও জানা যায়। সম্প্রতি এই কর্মকর্তা তার পুত্র ও পুত্রবধুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির জন্য বর্তমান প্রশাসনের কাছে চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন। তার দীর্ঘ চাকরি জীবনে ব্যক্তিগত উন্নয়ন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় সিকিউরিটির কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০০৫ সালে নিয়োগ পাওয়া এবং  ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক ও পাঁচ বছর পর ১৯৭৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার উভয়টিতে তৃতীয় বিভাগে এবং ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ এই কর্মকর্তার সার্টিফিকেটে নিজের নাম ও পিতার নামের মধ্যে গড়মিল রয়েছে।

অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিজের সুবিধাটুকু আদায় করে নিলেও তার অধীনস্থদের ক্ষেত্রে অনেকটাই উদাসীন ছিলেন।

অনেক নিরাপত্তাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, আগে প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ সুবিধা (বেল্ট, টুপি, বাঁশি, টর্চ লাইট, লাঠি, রেইনকোট) পেলেও বিগত কয়েক বছর ধরে তারা সেগুলো পাচ্ছেন না অথচ এসব বাবদ প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থোক বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এছাড়া নিরাপত্তা কর্মীদের সঠিকসময়ে প্রমোশন ও বিনা ভাড়ায় ক্যাম্পাসে বাসা পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। 

নিরাপত্তা কর্মীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপদের সম্মুখীন হলে তাদের পাশে থেকে কর্তৃপক্ষের জোড়ালো ভুমিকা না থাকায় তারা দায়িত্ব পালনে নিজেদেরকে অসহায় ও ঝুকিপূর্ণ মনে করেন। বিগত নিয়োগগুলোতে নিরাপত্তায় সঠিক লোক নিয়োগ না হওয়ায় নিরাপত্তার দূর্বল অবস্থার কারণ বলে অনেকে মতামত দেন। কিছু পরিদর্শনকারী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা যায়।

প্রফেসর ড. মোঃ সহিদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সময় সরকার, প্রশাসন ও নিরাপত্তা চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলেও দীর্ঘদিন সিকিউরিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকার পরও এই দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায় প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এড়াতে পাড়েন না । তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত প্রযুক্তির আওতায় এনে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ সম্ভব বলেও জানান। 

এ প্রসঙ্গে প্রফেসর আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা দূর্বল, অনেকেই অবসরে গেছেন। জনবল ও বাজেট বৃদ্ধি, ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে আসা ও মনিটরিং করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খন্ডকালীন হিসেবে নিরাপত্তার কাজে লাগানোর সম্ভবনার কথাও বলেন তিনি। এতে মাদক সহ অনেককিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ. কে. এম. জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাক্সফোর্সের মাধ্যমে নিরাপত্তা শাখা, প্রোক্টর শাখা এবং প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং এসব শাখার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করা হবে।

উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকে জোড়দার করতে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে চাই।

প্রশাসনের শক্ত অবস্থান, কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরিং, সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা প্রদান সহ নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে নিয়ে অঅন্তরিক পরিবেশে কাজ করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব বলে অনেকেই মনে করেন।

বিভিন্ন সুপারিশসমুহ

প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার জায়গায় দ্রুত যোগ্য ও অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ প্রদান। রক্ষী ও পরিদর্শনকারীর নিয়মিত জোন (নিরাপত্তা অঞ্চল) বদল। বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত পুলিশের সার্বক্ষনিক টহল জোড়দার। কর্তৃপক্ষের  নিয়মিত মনিটরিং।  ইনচার্জদের মত পরিদর্শনকারীদের মাসিক জ্বালানি খরচ প্রদান। দক্ষ নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ। আবাসিক এলাকা পুরোটা ঘিরে পকেট গেট। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশ পথ ও শেষ মোড়ের পাশাপাশি  জব্বারের মোড়, প্রধান নিরাপত্তা অফিসের সামনে, দিঘারকান্দা গেট, পোল্ট্রির মোড় সংলগ্ন গেট, ফসিলের মোড় ও পাগলাবাজার গেট এ বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ। নিয়ন্ত্রণ পয়েন্টগুলোতে চৌকি প্রদান (যেসব জায়গায় প্রয়োজন) ও টেলিফোন সংযোগ। নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তাদের ওয়াকিটকি প্রদান। যত্রতত্র দোকান বরাদ্দ না দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ও কমিউনিটির ব্যক্তিগত গাড়ীতে বিশেষ ট্যাগ বা স্টিকার লাগানো যাতে নিরাপত্তাকর্মীরা বুঝতে পারেন। বিভিন্ন জায়গার জঙ্গল পরিষ্কার করে ফলজ গাছ লাগানো ও পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা। নিরাপত্তা কর্মীদের যৌক্তিক সুযোগসুবিধা প্রদান।

প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার জায়গায় ইনচার্জদের মধ্য থেকে ৬ মাস করে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করার সুযোগ দিয়ে তাদের সক্ষমতা যাচাই করা যেতে পারে বলেও মতামত পাওয়া যায়।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নং রাস্তটি (ফার্স্টগেট থেকে জব্বারের মোড় হয়ে শেষ মোড় পযন্ত) দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করে সেটিকে জনসাধারণের যোগাযোগের মূল রাস্তা হিসেবে চালু করা।

নিরাপত্তা কর্মীরা যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেজন্য তাদের পাশে থাকা বিশেষ করে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে বিপদগ্রস্থ না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।

তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য রয়েছে প্রায় ১৮০ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং সার্বক্ষনিক পুলিশ টহলের ব্যবস্থা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি শৃঙ্খলার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার জন্য রয়েছে প্রোক্টরিয়াল বডি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এরকম অনেক সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনসাধারণের পারাপারে রাস্তা আছে যেখানে গণপরিবহনের চলাচল সম্পূর্নরূপে নিয়ন্ত্রিত এবং অনেকক্ষেত্রে নিষিদ্ধ। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতর দিয়ে যে রাস্তাই বহমান হোক না কেন তা যদি শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য ঝুঁকিপূর্ন হয় তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রন করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য অপরিহার্য। এখানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এবং সমাজের আলোকিত মানুষেরা বিচরণ করে। মুক্তচিন্তার এই প্রাঙ্গনে সার্বিক নিরাপত্তার খাতিরে অতিদ্রুত বাস্তব ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় দেশের এই অন্যত্তম বিদ্যাপীঠে নিরাপত্তায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশে মারাত্বক প্রভাব ফেলবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: