এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে
নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্বময় এই করোনা সংকটে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গলায় কাঁটা বিঁধে আছে মতো, পারছে না গিলতে, পারছে না ফেলতে উভয় সংকট। নিদ্রাহীন রজনী কাটছে ছাত্র-ছাত্রী আর অভিভাবকের। দুই বছরের নিরলস প্রচেষ্টা সর্বশেষ প্রস্তুতি যুদ্ধের ময়দানে পৌছানোর আগে বিধস্ত হয়ে পড়েছে। সারাক্ষণ খবরের কাগজ, টিভির নিউজে চোখ এই বুঝি কোন ব্রেকিং নিউজ দিল।
আজ পাঁচ মাসেরও বেশি সময় এ আতংকে ভুগছে তারা। কেমন হবে এই পরীক্ষা, আধো হবে কিনা, এরপর এই ছাত্রদের জীবনের একটা বড় স্বপ্ন লালিত বুকে যে নিরলস পরিশ্রম করে আসছিল তাদের জীবনের একটা পরিচয় নিধারণ হবার যে স্বপ্ন মূলত ভর্তি পরীক্ষা।
তাও কখন কিভাবে হবে সেটাও অনিশ্চিত। এই অবস্থায় অনেকে পরীক্ষার পড়া বাদ দিয়ে ভর্তি পরীক্ষার পড়া শুরু করে দিয়েছে। তাদের অনেকের প্রিপারেশন নষ্ট হয়ে গেছে। মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছে।
এখানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, ও নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণির শিক্ষার্থী আছে। এই মহামারী পরিস্থিতিতে অনেক অসহায় পরিবারের ছেলে মেয়েরা পরীক্ষার আশা বাদ দিয়ে চাকরিতে যোগদান করছে। এতবড় একটা ছাত্র সমাজ আজ আশাভঙ্গ হয়ে মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে।
২০২০ সালের এই করোনা মহামারীর কথা হয়ত একদিন অনেকে ভুলে যাবে কিন্তু ২০২০ সালের যাদের সার্টিফিকেট নিধারিত হয়ে যাচ্ছে তাদের আজীবন এর খেসারত দিতে হবে। কারো ভালো হতে পারে আবার কারো কল্পনার বাইরে ক্ষতি।
যখন রাস্তায় বের হলে দেখা যায় বিশাল যানজট, দোকানে, মার্কেটে, বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ভিড়। গণপরিবহনে নেই কোন বিধি নিষেধের ব্যবস্থা। আবার কেউ কেউ এখন পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়াতে খুশি হয়ে সপরিবারে বেড়াতে চলে যাচ্ছে। আসলে আমরা কতটুকু সুরক্ষিত আছি।
শহর থেকে একটু দূরে গেলে গ্রামে দেখা যাবে ভিন্ন রূপ। এখানকার লোকজন দেখলে মনেই হবে না বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত থেকে ওরা অনেক দূরে। মনেই হবে না এরা এ রোগ সম্পর্কে কিছুই জানে। কারো মুখে মাস্ক নেই। নেই দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল। সবকিছু আগের মতো চলছে।
তখন মনে হয় কেন শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ- এতে করে কোন ছাত্রদের বাঁচাতে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলো। অনেকে স্কুল খোলার পক্ষে নয়।
শুধু এ সময় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আর তাদের অভিভাবকগণ একান্তভাবে চায় অন্ততপক্ষে পরীক্ষাটা নিয়ে তাদের গলায় বিঁধে থাকা কাটাটা থেকে যেন উদ্ধার করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে ভয়ংকর করোনা রূপ ধারণ করবে জেনেও অভিমানে এসব কথা বলা।

