শিক্ষকদের কষ্টটা যদি এবার শেষ হয়

নিউজ ডেস্কঃ

এমপিও, শিক্ষকদের জন্য অনেকটা সোনার হরিণ। যারা এই তালিকায় আছে তারা তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলতেই পারে। আর যারা নাই, কিংবা নানা জটিলতায় গভীর অনিশ্চয়তায় তাদের বোধ হয় রাতের ঘুম হারাম। তবে জটিলতা নিরসনে জোর পদক্ষেপের কথাই বললেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন। সে অনুযায়ী সমাধান মিললে এমপিও নিয়ে শিক্ষকদের কষ্টটা হয়তো শেষ হবে।

মূলত এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) ভুক্তি বিষয়ে ভুল তথ‌্য দিয়ে শিক্ষকদের জটিলতার ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৯০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হয়েও এমপিওভুক্ত হয়েছে দাবি করে শিক্ষকদের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে নিয়োগ পেয়েও অনেক শিক্ষক সরকারি অংশের বেতন পাচ্ছেন না। এছাড়া শূন্য পদের ভুল চাহিদার বলি হয়ে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না অনেক শিক্ষক। এমপিওভুক্তি বিষয়ে ভুল তথ‌্য দিয়ে জটিলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, ভুল চাহিদা দেওয়ায় সারাদেশের ৯০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ভুল তথ্য দেওয়ায় ১ হাজার ১৭৩জন প্রার্থী জটিলতায় পড়েছেন। এর মধ্যে ৩২টি প্রতিষ্ঠান এমপিও পদ নন-এমপিও ঘোষণা করেছে। এজন্য ৩৫জন প্রার্থী এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। এই তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশিতে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মো. আকরাম হোসেন জানান, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের শিক্ষক নিয়োগে যেসব প্রতিষ্ঠান জটিলতা সৃষ্টি করেছে, সেগুলোর তালিকা করেছি। ইতোমধ্যে তালিকা মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ৯ জুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এনটিআরসি-এর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শূন্যপদ না থাকার পরও ভুল চাহিদা দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয় শিক্ষা অধিদপ্তর ও এনটিআরসিএকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘এনটিআরসি-এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখনো নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেসব সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ভুল তথ্য এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে আবার তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের যোগদান করানোর পর তাদের বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাউশি-মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এনটিআরসি-এর পাঠানো চিঠি আমার হাতে এসে এখনো পৌঁছয়নি।’ তালিকা পেলে যাচাই-বাছাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: