রাবির সেই ৫১শিক্ষার্থীর কপাল পুড়লো

আসাদুজ্জামান রিফাত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের ১৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনই ডিসকলিজিয়েট হয়েছেন। ফলে সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এসব শিক্ষার্থীরা।

বিভাগের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ২০১৪-১৫ সেশনের প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের দাবিতে রোবাবার বেলা ১১টা থেকে বিভাগের সামনে আমরণ অনশন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থান কর্মসূচির সাথে দ্বিতীয় বর্ষের যাদের ৬০ শতাংশের নিচে ক্লাশে উপস্থিতি আছে তারাও যোগ দেন।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা এখনও তাদের দাবি পূরণে কর্মসূচি অব্যহত রেখেছে। জানা যায়, কর্মসূচি পালনকালে সোমবার সকাল ৮ দিকে একজন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। একই দিনে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আরেক শিক্ষার্থী বাথরুমে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে তাকেও মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের ভুল স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। কিন্তু এর আগে আমাদের বিভাগে ৬০ শতাংশের অনেক কম উপস্থিতি থাকলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিলো। তবে এ বছর ক্লাশে ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি আছে, এমন শিক্ষার্থীদের ডিসকলিজিয়েট করে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এতে আমরা ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলাম না।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫ শতাংশ ক্লাশে উপস্থিত থাকতে হয়। যদি বিশেষ কারণে তা সম্ভব না হলে, জরিমানা সাপেক্ষে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে। তবে বিভাগের শিক্ষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনেই আমরা চলছি। ক্লাশে উপস্থিত না থাকার কারণেই তারা ডিসকলিজিয়েট হয়েছে।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ বলেন, ‘আগে কী হয়েছে আমি তা জানি না। আমি নিয়ম অনুযায়ী চলবো। তিনি আরো বলেন, ‘৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত যাদের উপস্থিতি ছিল তাদেরও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণ করে। আর অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের বাহিরে আমি যেতে পারবো না। এবং নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আমরা প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নিতে শুরু করেছি।’

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: