অনলাইনে পরীক্ষা দিতে চায় না শিক্ষার্থীরা, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি

online

নিউজ ডেস্কঃ করোনার কারণে এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে গতি আনতে অনলাইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি।

বৃহস্পতিবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির ভার্চুয়াল বৈঠকে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। তবে অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ইতিমধ্যে ‘অবিলম্বে সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে হবে’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ চালু করে সেই গ্রুপ থেকে অনলাইনে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা আগামী ২৪ মে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রী বরাবর এই আবেদন তাঁদের গ্রুপে আপলোড করেছেন।

অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আবেদনে বলেন, ‘অনলাইনে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো কোনো বাস্তবতা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেই। আমাদের দেশের নেটওয়ার্কব্যবস্থা খুবই দুর্বল, যা দিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্পূর্ণই অসম্ভব। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশকে অনলাইন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়। আবার শিক্ষকরাও অনলাইনের সব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ নন।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতেই অনলাইন পরীক্ষার নতুন এই পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছে উপযুক্ত ডিভাইসের অভাব আছে, ইন্টারনেট খরচ বহন করার সক্ষমতাও সবার নেই। যেখানে অনলাইন ক্লাসগুলোয় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত থেকে যায়, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আবেদনে আরো বলা হয়, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আমাদের দাবির কথা সরকারের কাছে ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার জন্য ভার্চুয়াল প্রতিবাদ চালু রাখব। যদি মে মাসের মধ্যে হল-ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না হয়, তাহলে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে সরাসরি মাঠে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বাধ্য হব।’

উল্লেখ্য করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হলেও পরীক্ষা হচ্ছে না।

সংক্রমণের নিম্নগতির মধ্যে গত ২২ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

২৪ মে পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চললেও কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

তবে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে ঘোষিত সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ফলে গত এক বছর ধরে দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা আটকে থাকায় ৪৯ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী দীর্ঘ সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছেন।

মহামারী পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে, সে আশঙ্কা থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সদস্য সাজ্জাদ হোসাইন।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,