বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল ফসলের অভিযোজন ও উৎপাদনশীলতায় এর প্রভাব নিয়ে বাকৃবিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশে পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু জাত সমূহের অভিযোজন এবং মাঠ পর্যায়ে এর উৎপাদনশীলতার প্রভাব বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৩রা জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস (নির্বাহী পরিচালক, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন) এবং মূখ্য আলোচক হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমেরিটাস প্রফেসর ড. এম.এ সাত্তার মন্ডল।
প্রধান অতিথি তার বক্তেব্যে বলেন, স্ব-স্ব প্রতিষ্টান তার নিজেদের উদ্ভাবিত ভ্যারাইটির সুনাম করে থাকেন। এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যারাইটির সুনাম করতে চায় না। এক্ষেত্রে এই প্রকল্পের গবেষণা টিমটি নিরপেক্ষভাবে জাতীয় স্বার্থে ভাল ভ্যারাইটিগুলোর একটি তালিকা করতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, গাইবান্দা এসব অঞ্চলে ঠান্ডা বেশী হওয়ায় বোরো ধান নিয়ে শীতকালে সমস্যায় পড়েন কৃষকরা। আমাদের ঠান্ডা সহনশীল ধানের জাত না থাকায় তা নিয়ে গবেষণার তাগিদ দেন তিনি।
ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ক্রপ একা চলতে পারে না পাশাপাশি টেকনোলজিও থাকে। কৃষক যাতে সেটি এডোপ্ট বা গ্রহণ করতে পারে সেটি খেয়াল রাখতে হবে। চর এলাকাতে কিছু কিছু জলবায়ূ সহনশীল ফসল আছে (যেমন কাউন) সেগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রফেসর ড. এম এ সাত্তার মন্ডল ফসলের জাত নির্বাচন এবং অঞ্চল ভিত্তিক নির্বাচিত বিভিন্ন ফসলের জাতের উৎপাদনশীলতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই গবেষণার ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু ধান ও গমের জাতসমূহের গ্রহণের মাত্রা বাড়ানোর কৌশল নীতি নির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার জন্য সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পটির প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. হাসনীন জাহান বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের আর্থ সামাজিক বৈশিষ্ঠগুলো নিরূপন করা সম্ভব হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত অভিযোজনে যেসব বিষয় দায়ী তা নির্ণয় করা এবং এসব ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিযোজনের গুরুত্ব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে বলেনও জানান তিনি।
বাউরেস এর পরিচালক, প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাদী নূর আলী খান এর সভাপতিত্বতে অনুষ্ঠানে অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গবেষকবৃন্দ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) এর মহাপরিচালকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি’র) এর পরিচালক ও কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের বিভিন্ন স্তরের গবেষকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবীর। প্রকল্পটির মূল বিষয় উপস্থাপন করেছেন প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. হাসনীন জাহান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন উক্ত প্রকল্পের সহ-গবেষক ড. নাহিদ সাত্তার, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ। এছাড়া সার্বিক সহায়তায় ছিলেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রকল্পের আরেক সহ-গবেষক ড. মাহবুব হোসেন।
দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনকে জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে দেশের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদীন ধরে লবণ, ক্ষরা, বন্যা ও তাপ সহিষ্ণু এবং সল্প মেয়াদি ফসল উদ্ভাবন করে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

