শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ, তবুও বহাল তবিয়তে ব্যবসা করছেন তিনি!

BAU

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, দাম বেশি রাখা, সময়মত পণ্য ডেলিভারি না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল-রণজিত মার্কেটের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের নজির আহমেদের বিরুদ্ধে।

বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি প্রদান করলেও চূড়ান্ত কোন সমাধান করে নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছেন তিনি। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ একটুও কমেনি বরং বেড়েছে!

শুধু তাই নয়, তিনি বর্তমানে বাকৃবির প্রকৌশল শাখার বিদ্যুৎ বিভাগের একজন বেতনভুক্ত স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য ব্যবসার সাথে তিনি জড়িত এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে বাকৃবির প্রকৌশল শাখার বিদ্যুৎ বিভাগের এডিশনাল চীফ ইঞ্জিনিয়ার মোহাঃ তৌহিদুল ইসলামের সাথে সবুজ বাংলাদেশ 24 ডট কমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নজির আহমেদ বিদ্যুৎ বিভাগের স্থায়ী কর্মচারী কিন্তু তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না। কোন কাজেই তাকে পাওয়া যায় না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নজির আহমেদ তাদের সাথে শিক্ষার্থী হিসেবে সৌজন্যমূলক আচরণ তো দূরের কথা বরং খোঁচা দিয়ে কথা বলেন, নির্দিষ্ট কুরিয়ার চার্জের অতিরিক্ত টাকা নেন, এমনকি পার্সোনাল চিঠিপত্র বা কাগজ পাঠালেও তা তাকে বের করে দেখাতে হয়।

কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের একটি পার্সেল বিদেশে পাঠাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন এছাড়া আরেকজন শিক্ষকের একটি পার্সেল আসলেও তিনি গ্রহণ না করে শহরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের দোকানে রেখে দেন।

এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরণের পার্সেল শহর থেকে আনতে হবে। কিন্তু শহরের সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন ভিন্ন কথা। নজির আহমেদ ইচ্ছা করেই নাকি এসব পার্সেল শহরে রেখে দেন।

এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে কুরিয়ার সার্ভিস থেকেও যদি শহরে যেতে হয় তাহলে সেই কুরিয়ার সার্ভিস থাকার প্রয়োজন কি? তাই এমন কাউকে কুরিয়ার সার্ভিসের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন যিনি পরিপূর্ণ সেবা দিতে প্রস্তুত। এছাড়া তারা দুর্ব্যবহার আর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণেরও বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে সবুজ বাংলাদেশ 24 ডট কমের পক্ষ থেকে বাউরেসের পরিচালক আবু হাদী নুর আলী খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে নজির আহমেদের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কোন ধরণের খারাপ আচরণ করবেন না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিলে আবারো দোকান খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবারো যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: