হাবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে শনিবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৬ উদযাপিত হয়েছে।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮.১৫ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীেেদর নিয়ে এক স্বাধীনতা র্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
সকাল সাড়ে ৮ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ক্রমান্বয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, হলসমূহ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিপ্রবি শাখা), হাবিপ্রবি হলসমূহের ছাত্রলীগ শাখা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (হাবিপ্রবি শাখা), প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদ, হাবিপ্রবি স্কুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের ২৬ মার্চের বাণী পাঠ ও বিতরণ করা হয়।
এর পর দিবসের তাৎপর্যের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার পরিচালক প্রফেসর ডা. এস.এম হারুন-উর রশীদ সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফুদ্দিন দরুদ এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. বলরাম রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সাইফুর রহমান, ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের মোহাম্মদ ফেরদৌস মেহবুব, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস আলম, সাধারন সম্পাদক আ.ন.ম ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার শেখ রাসেল হলের সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুস জোহা, কার্যকরী কমিটি’র সদস্য মমিনুল হক রাব্বি, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদের পক্ষ থেকে সাধারন সম্পাদক পারভেজ হোসেন, আব্দুর রহিম, প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বলেন, বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তি পাগল মানুষ শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ। শুরু হয় আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম আর সাহসিকতার এক নতুন অধ্যায়। অবশেষে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর অগণিত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল এর মাধ্যমে মানবতা বিরোধীদের বিচার করে চলেছেন। আমি মনে করি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছেন তা বাস্তবায়িত হবে।
পরে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই শিক্ষক বনাম ছাত্র, কর্মকর্তা বনাম কর্মচারী, বিদেশী ছাত্র বনাম দেশী ছাত্রদের মধ্যে প্রীতি ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষিকা বনাম ছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় মিউজিক্যাল চেয়ার। শিশুদের জন্য বিস্কুট দৌড় এবং সকলের জন্য যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
খেলাধুলা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাদ যোহর শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কমনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

