নিরাপত্তাহীন বাকৃবি, আতংকে দিন কাটাচ্ছেন অনেকেই
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্ব বৃহৎ বিদ্যাপিঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নিরাপত্তা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্মরণকালের মাঝে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাহীনতা দেখছেন বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক সহ অনেকেই।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা শিক্ষাঙ্গন কে সবসময় নিরাপদ ও ঝামেলাবিহীন এলাকা বলেই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু সেই নিরাপত্তা নিয়েই এখন সকলের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
গত বেশ কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া চুরিসহ আরো কয়েকটি ঘটনা বিবেচনায় আনলে যা আরো সুস্পষ্ট হয়।
গত ২০ অক্টোবর, বাকৃবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এম এ ফারুখ এর মোটরসাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদীয় করিডোর থেকে অফিস সময়ে চুরি যায়। সাথে অন্য আরেকটি মোটরসাইকেলও চুরির চেষ্টা করে চোরটি।
বাকৃবির এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি গত ২৩শে অক্টোবর ভেটেরিনারি অনুষদীয় গ্যারেজে সাইকেল রেখে কাজে যান। ফেরার পর তিনি সেখানে আর সাইকেল দেখতে পাননি। তালা কেটে চুরি করা হয় তাঁর সাইকেলটি। এসব ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে সম্প্রতি চুরির ঘটনা অত্যাধিক বেড়ে যাওয়া চিন্তিত সাধারণ শিক্ষার্থী সহ সকলেই।
সেই শিক্ষার্থী আরো অভিযোগ করে বলেন, অনুষদীয় গ্যারেজে প্রায় সকলেই তাদের সাইকেল-মোটরসাইকেল রেখে যার যার কাজে যান। এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় নেই কোনো সিসি ক্যামেরা। অফিস টাইমের পর সেখানে থাকেন না কোনো নিরাপত্তা কর্মীও।
এছাড়াও নিরাপত্তা শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাসের অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। যা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্যে একটি বড় হুমকি।
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা ও চলাফেরা অনিয়ন্ত্রিত। ক্যাম্পাস এলাকার সর্বত্র রয়েছে তাদের অবাধ বিচরণ। যে কেউ অবাধে ঢুকতে পারছেন ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকা সহ সব জায়গায়। শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা থেকেও সচারচর চুরির খবর মিলছে।
সম্প্রতি এক মহিলা আগন্তুককে আবাসিক এলাকার এক শিক্ষকের বাসায় হঠাৎ করে ভিতরে প্রবেশ করার ঘটনা ঘটেছে। এরকম সন্দেহজনক কয়েকজন মহিলাকে সম্প্রতি আবাসিক এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
বন্ধের দিনগুলোতে ক্যাম্পাস এরিয়া রীতিমতো হয়ে উঠে পার্ক। চলে মোটরসাইকেল শো-ডাউন ও উচ্চ শব্দে হর্ন দেয়া। মধ্যরাতেও চলে মেয়ে নিয়ে মোটর সাইকেলে ঘোরাফেরা। মেয়েদের হলের সামনে দিয়ে চলে উচ্চগতির মোটরসাইকেল প্রতিযোগিতা। বহিরাগতদের এমন অবাধ বিচরনে আতংকিত সাধারন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
মেয়েদের আবাসিক হলের রাস্তাটি নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় এসব হলের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তাটি পার হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল এক নতুন উপদ্রবের নাম। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় সৃষ্ট জ্যাম এড়াতে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়, কে আর মার্কেটের মতন এলাকাগুলো যেখানে শিক্ষার্থীদের বিচরণ সবচেয়ে বেশী। এতে দুর্ঘটনার আশংকায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও আম বাগান সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর শুরু হয় ছিনতাইকারীদের উৎপাত। উল্লেখ্য যে উক্ত এলাকায় এর আগে কয়েকটি খুনের ঘটনাও ঘটেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী সবুজ বাংলাদেশ24 ডট কম কে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংকট চরম। ক্যাম্পাসের সর্বত্রই আমরা আতঙ্কে থাকি। প্রশাসনের উচিত দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, মেয়েদের হলগুলোতে রাতের বেলা প্রায় সময়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এছাড়াও হলগুলো মেইন রোডের পাশে হওয়ায় রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
বাকৃবির নিরাপত্তা বাড়িয়ে ক্যাম্পাসকে আরো নিরাপদ করতে প্রশাসনের নিকট বারংবার দাবি জানানোর পরেও বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে উদাসীন দেখা যায় বলে অভিযোগ অনেকরই।
পর্যাপ্ত পরিমাণ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সার্বক্ষনিক মনিটরিং, বহিরাগতদের অবাধ চলাফেরা বন্ধ, নিরাপত্তা কর্মীদের আত্মরক্ষার সরঞ্জামাদি প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এছাড়া সাইকেল ও মটর সাইকেল এর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বা গ্যারেজ করে সেখানে টোকেন সিস্টেম করে দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী ভুক্তভোগীদের।

