বাকৃবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও (বাকৃবি) ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। ডেঙ্গুর ভয়বহতা উপলব্ধি করে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। এ বিষয়ে সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধকল্পে উপাচার্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান কে সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ কেয়ার সেন্টারের ডাঃ মোঃ শাহাদাৎ হোসেনকে সদস্য-সচিব করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল দাস, প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সহিদুজ্জামান (সবুজ) ও অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা, ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল আলম।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কমিটি বিস্তর আলোচনা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জানা যায়, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নির্মূলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে তিনটি জোন বা এলাকায় ভাগ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকা, একাডেমিক এলাকা ও শিক্ষার্থীদের হল এলাকা। এসব এলাকায় সমন্বিত পদ্ধতিতে মশা ও মশার লার্ভা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। জায়গাগুলোতে ক্ষেত্র বিশেষে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ ও ফগার মেশিন দিয়ে কার্যকরী কীটনাশক স্প্রে করা হবে বলে জানা যায়। সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষে লিফলেট বিতরণ,র্যালি ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে বলেও জানা যায়। এছাড়া ডেঙ্গু রোগী সনাক্তকরণে ডেঙ্গু টেস্ট কিট কেনার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শুক্রবার (১১ আগষ্ট) সকাল ১০.৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব জায়গায় এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে সেসব জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এসময় মশক কর্মীদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে কিছু জায়গায় মশক নিধন কর্মসূচী চালানো হয়েছে। এসময় বাকৃবি ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা বলেন, কিছু কিছু জায়গায় এডিস মশা বাগানে ও পরিত্যক্ত গাছের টবের জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। কমিটির সদস্যরা বলেন, নিজেদের তত্ত্বাবধায়নে থাকা জায়গায় যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে এবং ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে কমিটিকে অবহিত করতে হবে।

