বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মেধা সম্পদ সুরক্ষায় ইউজিসির কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মেধাসম্পদ সুরক্ষা ও গবেষণামান আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণে ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রোপার্টি রাইটস (আইপিআর) বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ওই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইউজিসির এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক ড. দূর্গা রানী সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক এবং ভার্চুয়ালভাবে যুক্ত ছিলেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। এছাড়া বাকৃবির আইকিউএসির পরিচালক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম. আসাদুজ্জামান সরকারসহ সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষক ওই কর্মশালায় অংশ নেন।

উচ্চশিক্ষার কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৮-২০৩০ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মেধাস্বত্ব অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় জানা যায়, দেশের ১৬৫ টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণা পেটেন্ট করার উদ্দেশ্যে ইউজিসিতে জমা দিয়েছে। কিন্তু ১১৯ টি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পেটেন্টই জমা দেয় নি। মূলত এই পেটেন্ট জমা দেয়ার কাজটি আরো সহজ করার উদ্দেশ্যেই এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

এছাড়া ওই কর্মশালায় জানা যায়, ইউজিসি কর্তৃক প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল ‘ওয়ার্ল্ড আইপি ডে’ আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্ভাবনী ধারণা ও মেধা সম্পদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইউজিসি একটি সেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আইনজীবী পুল গঠন করে দ্রুততম সময়ে পেটেন্ট নিবন্ধনে সহযোগিতা করা হবে। শক্তিশালী মেধাস্বত্ব অধিকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেটেন্ট নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, সৃজনশীল কাজ, উদ্ভাবন এবং অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক আবিষ্কারের জন্য আইনি অধিকারের স্বীকৃতি হচ্ছে আইপিআর। উন্নত বিশ্বে এটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে জটিল প্রক্রিয়ার কারণে এটি তেমন জনপ্রিয় হচ্ছে না। ইউজিসি আইপিআরকে সংশ্লিষ্টদের মাঝে জনপ্রিয় করতে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করছে।

ইউজিসি সদস্য আরো বলেন, একটি জাতিকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে নিতে হলে এই খাতে বাজেট বাড়াতে হবে। মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ থাকে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে। এত কম বাজেট দিয়ে জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই খাতটিকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা প্রত্যেকেই বিশ্বখ্যাত শিক্ষক ও গবেষক। এসময় যদি দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় বাজেট বাড়ানো হয় তারা অবশ্যই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •