বাকৃবিতে দুই বছর ধরে ইমামের দায়িত্বে মুয়াজ্জিন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন একজন সানি ইমাম। ক্যাম্পাসের আরেকটি মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন সেখানকার মুয়াজ্জিন। ২১ মাস আগে দুটি মসজিদের পেশ ইমামের পদ শূন্য হলেও এখনো কোন নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন জটিলতায় পেশ ইমাম নিয়োগ আটকে আছে বলে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও আবাসিক এলাকার বায়তুল আমান মসজিদের দুই পেশ ইমাম মো. ফজলুল হক এবং মো. ইছহাক ২০১৪ সালের জুলাই মাসে অবসরে যান। পরে দুই জনকেই ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক পেশ ইমামের দায়িত্বে রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জানুয়ারির পর থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদে জ্যেষ্ঠ ইমাম মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এবং বায়তুল আমান মসজিদে সেখানকার মুয়াজ্জিন মো. নুরুজ্জামান পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসন পেশ ইমামের শূন্য পদের বিপরীতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পদের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতায় রদবদল করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে পরিকল্পিতভাবে ধর্মমন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন না মেনে ওই বিজ্ঞপ্তি দেয় তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে নিয়োগটি সম্পর্কে কথা ওঠায় এবং তৎকালীন উপাচার্য রফিকুল হক শিক্ষকদের আন্দোলনে পদত্যাগ করায় বিষয়টির সমাধান হয়নি। নতুন উপাচার্য ২০১৫ সালের ২৪ মে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক বছর পরেও নিয়োগের বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি মসজিদের পেশ ইমামের দুটি পদের জন্য জনকণ্ঠ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই বিজ্ঞাপনে পেশ ইমামের যোগ্যতা হিসেবে লেখা হয়, ‘কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইসলামি স্টাডিস অথবা আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা সমমানের কামিল পাশ এবং বড় কোন মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে’। কিন্তু ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পেশ ইমামের যোগ্যতা হিসেবে উল্লিখিত যোগ্যতা ছাড়াও ‘কোন কওমী মাদ্রাসা হতে কমপক্ষে ২য় শ্রেণির দাওরায়ে হাদীস’-এর কথা বলা আছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে দাওরায়ে হাদীসের কথা উল্লেখ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তা দেওয়া নেই। অথচ একই পদের জন্য ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট ইনকিলাব পত্রিকায় দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত সব যোগ্যতার উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিজ্ঞাপনে পেশ ইমামের আবেদনে সর্বোচ্চ বয়স চাওয়া হয়েছে ৩০ বছর। সরকারি প্রজ্ঞাপনে যা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর উল্লেখ রয়েছে। ১৯৯৬ সালের বিজ্ঞাপনে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছরের কথা উল্লেখ ছিল। এ কারণে অভিজ্ঞ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেননি বলে হতাশা প্রকাশ করেন।

সাবেক জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম ফজলুল হক বলেন, ধর্মীয় শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও বৈধভাবে পেশ ইমাম নিয়োগ করতে আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা দরকার। সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দ্রুত দুই ইমাম নিয়োগ দেওয়া উচিৎ। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে হাফেজদের প্রাধান্য দিলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অনেক কিছু শিখতে পারবে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আলী আকবর বলেন, তৎকালীন প্রশাসন কিছু জটিলতা সৃষ্টি করে যাওয়ায় বিষয়টি সমাধানে সময় লেগেছে। তবে খুব দ্রুত সকল নিয়ম মেনে কিভাবে নিয়োগটি সম্পন্ন করা যায় তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সাংবাদিক আব্দুল ওয়াহাব

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: