বাকৃবিতে ১৮ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছেলেদের আবাসিক একটি হলে ভুয়া রশিদ দেখিয়ে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই হলের বর্তমান প্রভোষ্ট হলের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু করতে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এবিষয়ে একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের মিতালী কনসালটিং ফার্মের মালিক শামসুল আলমকে ছেলেদের আবাসিক ঈশা খাঁ হলের সিভিল, স্যানিটারী ও বৈদ্যুতিক কাজ বাবদ ৫৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৯শ ১৭ টাকার কার্যাদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তন্মধ্যে বাস্তবে প্রায় আঠার লক্ষ টাকার কাজের কোন অস্তিত্বই নেই।
তবে লিখিত রশিদ আছে। আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে সিডিউলে উল্লেখিত কাজের শতকরা ৫ ভাগেরও কম কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া যে কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে সেখানেও অনেক নিম্মমানের জিনিষ দেওয়া হয়েছে।
বৈদ্যুতিক শাখায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাইপ ফ্লুরেসসেন্ট টিউব লাইট, কাট আউট, মেইন সুইচ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব জিনিসের কোন অস্তিত্ব নেই বলে জানান ওই হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া বিআরবি ব্র্যান্ড এর বৈদ্যুতিক পাখা সংযোজনের কথা থাকলেও লাগানো হয় খুবই নিম্মমানের পাখা। কিন্তু রশিদ করা হয় বিআরবি ব্র্যান্ড এর দাম অনুসারে। এমনকি বৈদ্যুতিক পাখা যতটা সংযোজন করার কথা ছিল তার থেকে প্রায় অর্ধেক বৈদ্যুতিক পাখা সংযোজন করা হয়।
দরজার পাল্লা, চৌকাঠ মেরামতের কাজে ৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৫২০ টাকার মাইল্ড স্টীল ব্যবহার করার কথা রশিদে উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে হলের কোথাও এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় নি। হলের ভিতরে ও বাহিরে তিনস্তর বিশিষ্ট রং করার কথা থাকলেও মাত্র এক স্তর বিশিষ্ট রং করতে দেখেছেন হলের কর্মচারীরা।
অথচ রং করার জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। ২২০০ টাকা মূল্য মানের ৩০ টি বাথরুমের শাওয়ার হেড লাগানোর কথা থাকলেও তা লাগানো হয়নি। স্যানিটেশনের জন্য ৪ হাজার টাকা মূল্য মানের ৭টি পর্যবেক্ষন পিট এবং ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সেফটিক ট্যাংক স্থাপনের কথা থাকলেও খুজে পাওয়া যায় শুধু পুরাতন পিটগুলো। এছাড়া দেড় হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৮টি পানির ট্যাংক সংযোজনের কথা রশিদে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে আছে মাত্র ৩টি।
এদিকে আশ্চর্যের বিষয় হল, ওই হলের সাবেক প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কাজ তদারকি কমিটিতে থাকা প্রধান প্রকৌশলী মো.শাহীন ইসলাম খান। এছাড়াও ফার্ম স্ট্রাকচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্তক) মো.এনামুল হক, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম, পানি সরবরাহ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মুনিরুজ্জামান হলের বিবিধ মেরামতি কাজ সিডিউল মোতাবেক সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রত্যয়ন পত্র দেয়।
যোগাযোগ করা হলে ওই হলের সাবেক প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড.মো. রফিকুল আলম সব দায়ভার তৎকালীন কমিটির উপর বর্তান। যদিও তিনি উক্ত কাজের পর্যবেক্ষন কমিটির প্রধান ছিলেন। এছাড়াও তিনি দাবি করেন অধিকাংশ কাজে তার আগের হল প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আবছার খানের সময়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরো জানান, খোঁজ নিলে সব হলের অবস্থা প্রায় একই রকম পাওয়া যাবে। তবে অধ্যাপক ড.মো. নূরুল আবছার খান বলেন, আমার সময়ে কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু সব কাজ বুঝে নিয়েছিল অধ্যাপক ড.মো. রফিকুল আলম।
প্রধান প্রকৌশলী মো.শাহীন ইসলাম খান বলেন, কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছিল বিধায় আমি প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম। যদি কাজে গড়মিল পাওয়া যায় তাহলে অভিযুক্তদের শাস্তি পেতে হবে। এমনকি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ‘ব্লাক লিস্টেড’ করা হবে।
এবিষয়ে মিতালী কনসালটিং ফার্মের মালিক শামসুল আলম বলেন, শিডিউল অনুযায়ি সব কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বলেই তো আমাকে প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়। বরং ৫ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত কাজ করেছি। কিন্তু টাকা এখনো পাইনি।
একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড.মো.আলী আকবর জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল। তদন্ত করে ব্যবস্থা করা হবে।
ছবি: মনোয়ারুল ইসলাম নয়ন

