হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: বিদেশী শিক্ষার্থীদের ঈদ

শাহীন আলম:
শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্র ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে ঈদ উদ্যাপনই বাংলার চিরচারিত সংস্কৃতি। কর্মব্যস্ত মানুষ মাঝে মাঝে এ সংস্কৃতির ব্যতয়ও ঘটিয়ে ফেলে। অফিস ছুটির সীমাবদ্ধতা ও যানবাহনের ঝঞ্ঝাট মাড়িয়ে ফেরা হয় না জন্মভূমিতে। কিন্তু মুসলিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ঈদ উদ্যাপনের ঘটনা তেমন দেখা যায় না বললেই চলে। যা এ বছর দিনাজপুরে অবস্থিত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে চলেছে। ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত প্রায় দেড় শতাধিক বিদেশী শিক্ষার্থীর অনেকেই এবার ক্যাম্পাসেই ঈদ উদ্যাপন করবে। তাই প্রিয় ক্যাম্পাসের ঈদ উদ্যাপন নিয়ে আজকের এ লেখনী লিখেছেন শাহীন আলম।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশী। ঈদে পরিবার ও আত্মীয়দের সাথে জমে ওঠে আড্ডা রাশি রাশি। এমন অনুভূতিগুলোই ব্যক্ত করলো জিবুতি থেকে আসা বিদেশী মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. বারকাত হাসান। দেশের বাহিরে পরিবার ছেড়ে তৃতীয় বারের মত ঈদ পালন করছি। প্রথমবার ভারতে ও দ্বিতীয়বার বাংলাদেশে ঈদ করেছি। কিন্তু এবার প্রথমবারের মত ক্যাম্পাসে ঈদ করতে চলেছি। খুবই রোমাঞ্চকর লাগছে। সাথে সাথে খুব বেশি মিস করছি পরিবারকে। দেশের ঈদ সংস্কৃতিকে। আর সুস্বাদু খাবারগুলিকে। তবে এটি বলার মতো, হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস আমাকে যে যোগ্যতা ও দৃঢ়তায় গড়ে তুলছে তা বলার ভাষা নেই। এ যোগ্যতা আমাকে দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি সন্মানিত করবে। তাই বিদেশেও মহামিলনের ঈদ উদ্যাপন করলেও মন খারাপ হচ্ছে না। বাংলাদেশ ও প্রিয় ক্যাম্পাস হাবিপ্রবিকে ধন্যবাদ জানাই বাংলার সংস্কৃতিতে ঈদ উদ্যাপনের সুযোগ করে দেবার জন্য।

আরেক মাস্টার্স শিক্ষার্থী উসমান হাসান। এসেছেন সোমালিয়া থেকে। আন্তর্জাতিক হলের অধীনে এবার আবাসিকভাবে ক্যাম্পাসেই ঈদ করবেন। ইয়েমেনের পর এবার বাংলাদেশে ঈদ উদ্যাপন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। বাংলাদেশ খুব ভাল। মানুষেরা অত্যাধিক বন্ধুবৎসল। বিশেষ করে এ ক্যাম্পাসের মানুষগুলো। দেশ ছেড়ে ঈদ করলেও ইন্শাআল্লাহ খুব বেশি মজা হবে এ ঈদে। তবে পরিবারের ২২ জন সদস্যকে খুব মিস করব। দিনাজপুর শহরে গিয়ে ইতিমধ্যে পাঞ্জাবী, ট্রাউজার, জুতা কিনেছি। প্রিয় ক্যাম্পাসে বিদেশী বন্ধুদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাবো বলে।

নাইজেরিয়ার মাহমুদ আবু বক্কর বশির। কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতোকত্তরে অধ্যয়নরত। আধো আধো বাংলা ও স্বতস্ফূর্ত ইংরেজি ভাষায় দেশের বাহিরে প্রথম ঈদ উদ্যাপনের অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। বললেন, বাংলাদেশে অনেক বন্ধু হয়েছে। প্রায় সবাই গ্রামে চলে গেছে ঈদের ছুটিতে। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত এবারের ঈদ নিয়ে। আমার স্ত্রী ও ৮ মাস বয়সের একমাত্র পুত্রকে খুব বেশি মিস করব। আসলে এটা খুবই আত্মত্যাগের ব্যাপার। ছোট্র সোনা তার প্রথম ঈদ বাবাকে ছাড়াই করবে, যা সারা জীবন মনে থাকবে। অন্যদিকে দেশীয় সংস্কৃতি ছেড়ে বিদেশী কৃষ্টি-কালচারের ঈদ অনেক উপভোগ্য হবে বলে মনে করছি। বিশেষ করে এদেশের পোশাক ও খাদ্যাভাস। দেশে যা করতাম এখানে তা হবে না ঠিকই, কিন্তু ভিন্ন কিছু অপেক্ষা করছে আশা করচি। সত্যিই এক রমাঞ্চের অপেক্ষায় আমরা।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ওমর মাহমুদ। সোমালিয়া ছেড়ে এবার দ্বিতীয় ঈদ বাংলাদেশে। তবে ক্যাম্পাসে এবারেই প্রথম। সে খুব খুশি প্রিয় ক্যাম্পাসে ঈদ করতে পেরে। শহর থেকে পাঞ্জাবী, শার্ট, জুতোও কিনে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় যোগ দিতে চান নবনির্মিত উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে। জামাত শেষে পার্টি দিতে রান্না করতে চান ফ্রাইড রাইস, চিকেন কারি, মাটনসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার। বেড়াতে যেতে চায় রামসাগর, স্বপ্নপুরী, কান্তজিউ মন্দির, শহরের পুরনো হলে।

বিদেশী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ঈদ উদ্যাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নিত হতে চলেছে। বিদেশী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সব সময় ক্যাম্পাসে আবাসিক হলে অবস্থান করছে। এমনকি ঈদের মত বড় উৎসবেও। এটি আমাদের গর্বের বিষয়। এ উৎসব উদ্যাপনে তাদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •