কৃষিতে নতুন উদ্ভাবন ও সফলতার দৃষ্টান্ত নাটোরের সেলিম (ভিডিও)

নাটোর প্রতিনিধি:
মো. সেলিম রেজা, উচ্চ শিক্ষিত একজন সফল কৃষক তিনি প্রথমে ভেষজী শতমূল, মিচরিদানা, ঘৃতকুমারী চাষ শুরু করেন। পরে ২০০২ সালে আপেল ও থাই কুল চাষ শুরু করেন ৩৮ বিঘা জমিতে। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দেশে কৃষক পর্যায়ে প্রথম থাই বারোমাসি পেয়ারা চাষ শুরু করেন। মূলত থাই পেয়ারাই সেলিমের কৃষিতে ভাগ্যের দ্বার খুলে দেয়।

প্রতি বছর জমি বাড়াতে বাড়াতে বর্তমানে থাই পেয়ারার ৬ষ্ঠ প্রকল্পে জমির পরিমাণ প্রায় ৮০ বিঘা। এর মাঝে তিনি গ্রীষ্মকালীন পেয়াজ, ফুলকপি, টমেটো এবং দেশে প্রথম কাটাবিহীন গোলাপ ফুল সহ গ্লাডিওলাস ফুলেরও চাষ করেন। প্রতি বছর সেলিম অসময়ে বিশেষ করে রমজান মাসে লালমি জাতের বাংগী চাষ করেও প্রচুর অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তিনি রেডলেডী জাতের পেপে চাষ করেও সফল হয়েছেন।

সেলিম কৃষি সম্প্রসারণে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা সহ কৃষি গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। সেলিম এখন তাইওয়ান থেকে আনা মাটিতে পচনশীল কৃষি বান্ধব মালচিং পেপার তার খামারে ব্যবহার করেন। এতে স্ট্রবেরী, করলা, বেগুন, মরিচ, শসা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লেটুস পাতা, চায়না বাঁধাকপি, লাল বাঁধাকপি সহ বিভিন্ন সবজি ও ফল চাষ করেও সফল হয়েছেন। তার কৃষি মূলত পরিবেশ বান্ধব। সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নেই বললেই চলে। মালচিং পদ্ধতির ব্যবহারে জমিতে লেবার কম লাগে। খাবার ও সেচ কম লাগে, আগাছা হয় না। পোকামাকড়ের আক্রমন কম হয়। মাটির আর্দ্রতা তথা স্বাস্থ্য রক্ষা হয়।

কৃষিতে সেলিমের নতুন নতুন উদ্ভাবন, বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশের উন্নয়ন, হাজারো মানুষের (মহিলা ও পুরুষের) কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সেলিমের সাফল্যের চালচিত্র ও প্রভাব বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশ হওয়ায় দেশের লাখো মানুষের বেকারত্ব দূর হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বর্তমানে সেলিম রেজার পেয়ারা সহ বিভিন্ন জাতের বারোমাসি কাগজি লেবু, শরিফা, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরী ও বাণিজ্যিক ভাবে বাতাবি লেবু, বারি-৪ জাতের আম, গৌরমতি ও নভেম্বরে পাকবে এরকম আম নিয়ে গবেষণা ও চাষ শুরু করেছেন তিনি। দেশের বিলুপ্ত প্রায় পুষ্টি সমৃদ্ধ ও বিষমুক্ত ফলগুলো বারোমাস মানুষ খেতে পায় এটাই তার পরিকল্পনা।

কৃষিতে সেলিম রেজার সফলতার অবদানে প্রভাব যে দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে তাহা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন মাননীয় কৃষি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপ-সচিব, বিভিন্ন মহা-পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত উপ-পরিচালকসহ দেশ বিদেশ থেকে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

এতে করে সেলিম নিজের ও পরিবারের শুধু জীবন যাত্রার মানোন্নয়নই করেননি বরং কৃষিতে দৃষ্টান্ত মূলক অবদান রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে চলেছেন। সেলিম রেজা বিষমুক্ত ও অর্গানিক পদ্ধতিতে ফল ও সব্জী উৎপাদনের জন্য জাতীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দুই বার (২০১২ ও ২০১৪) পুরস্কৃত হন। এছাড়া আঞ্চলিক পর্যায়েও সেলিম রেজা ৩০টিরও বেশী সনদ, ক্রেষ্ট, গিফট ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।

selim-reza2

সেলিম মনে করেন, শরিফা ফল ৩ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত (আগষ্ট-ডিসেম্বর) মাস পর্যন্ত বাজারে বিক্রি হয়। একটি গাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। ২ থেকে ৩ বছরেই গাছ থেকে ফল আসতে শুরু করে। সেলিমকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও নাটোর হটিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক স. ম. মেফতাহুল বারি ও সদর কৃষি অফিসার ড. সাইফুল আলম।

যোগাযোগ:
দৃষ্টান্ত কৃষি খামার ও নার্সারী
প্রো: মো. সেলিম রেজা
ই-মেইল: reza16900@gmail.com
মোবাইল: 01711-416900 / 01796-339693

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: