মাছ চাষে সফল ভোলার শেখ ফরিদ
ভোলা প্রতিনিধি:
নিজের প্রচেষ্টা থাকলে ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব, এমনটাই প্রমান করলেন ভোলার সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের মাছচাষী শেখ ফরিদ। বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে প্রথমে দুটি পুকুর দিয়ে তিনি মাছচাষ শুরু করেন। প্রথম বছর লাভবান হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ২০টি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সময়ের ব্যবধানে আজ শেখ ফরিদ সফল মাছচাষি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন আরও প্রায় শতাধিক মানুষের। এমনকি তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের বেকার যুবক, ছাত্র, চাকরিজীবীসহ অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফরিদ জানান, ২০১১ সালে ৬ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে দুটি পুকুরে মাছচাষ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষের পরিসর বৃদ্ধি করতে থাকেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সাফল্যের চাবিকাঠি হাতে এসে ধরা দিতে থাকে।
বর্তমানে তিনি ২০টি পুকুরে মাছচাষ করছেন। এসব পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতল, পাঙ্গাশসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করেন। আয়ও বাড়তে থাকে। গত বছর (২০১৬ সালে) তিনি ৬০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন। বর্তমানে মাছচাষ থেকে তার বাৎসরিক আয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। মাছচাষে সংসারের অভাব দুর হয়েছে তার। সেই সাথে পেয়েছেন পরিচিতি এবং সুখ্যাতি। সব মিলিয়ে শেখ ফরিদ এখন একজন গর্বিত মানুষ। অপরদিকে শেখ ফরিদের মাছচাষের পুকুর গুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে আরও শতাধিক মানুষের। তাদের সংসারেও এখন অভাব দুর হয়েছে।
শেখ ফরিদের মাছচাষের পুকুরে কর্মরত শ্রমিক মো. হাসান জানান, আগে তিনি ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। এতে করে তার সংসারে অভাব-অনটন লেগে থাকতো। কিন্তু শেখ ফরিদের ঘেরে চাকরি করে এখন তার সে অভাব দুর হয়েছে। একই কথা জানালেন শ্রমিক মো. বাবুল। তিনি বলেন, তার মত প্রায় শতাধিক শ্রমিকের সংসার চলে শেখ ফরিদের ঘেরে চাকরি করে।
তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের বেকার যুবক, ছাত্র, চাকরিজীবীসহ অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মাছচাষ বিষয়ে পরামর্শ নিতে প্রতিদিনই কেউ না কেউ তার কাছে আসেন। তিনি তাদেরকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহাবুব জানান, শেখ ফরিদের মাছচাষের সুবাদে গ্রামের অনেকেই উপকৃত হয়েছে। এলাকার যারা বেকার যুবক আছে তারাও এ কাজে আগ্রহী হচ্ছে। আবার অনেকে মাছচাষ শুরু করে দিয়েছে। আমরা তার এ সাফল্যকে আমাদের সাফল্য বলে মনে করি।
একই গ্রামের নবম শ্রেণীর ছাত্র মো. নোমান ও কলেজ ছাত্র ইমন জানান, পড়া-লেখার পাশাপাশি তারা নিজেদের বাড়ির পুকুরে মাছ চাষ করার পরিকল্পনা করছেন। শেখ ফরিদ যদি সহযোগিতা করেন তাহলে তারাও সাফল্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করছেন।
ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, শেখ ফরিদ মাছচাষ করে শুধু নিজেই সফলতা অর্জন করেননি, তাকে দেখে যুব সমাজের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে অত্র এলাকায় মাছচাষে বিপ্লব ঘটবে বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।

