বাংলাদেশে গ্রিনহাউস গ্যাসের হটস্পট শনাক্ত, উঠে এলো উদ্বেগজনক তথ্য!
নিউজ ডেস্কঃ বাড়ছে পৃথিবীর উষ্ণতা। এর জন্য এতদিন কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হলেও এবার সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মিথেন গ্যাস।
প্রাকৃতিক কোনো উৎস নয়, মানুষের ব্যবহৃত বর্জ্য থেকেই ঢাকার আকাশে উৎপন্ন হচ্ছে মিথেন গ্যাস, যা ভেসে বেড়াচ্ছে ঢাকার আকাশে। সাধারণ বিবেচনায় কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিপজ্জনক গ্যাস বলে মনে করা হয়, কিন্তু এই মিথেন গ্যাস ২১ গুণ বেশি বিপজ্জনক।
বাংলাদেশে শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের অন্যতম প্রধান হটস্পট হয়ে উঠেছে রাজধানীর মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল। সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় চার হাজার কেজি মিথেন নির্গত হচ্ছে বলে জানিয়েছে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাট।
মন্ট্রিল-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাটের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন জার্মেইন জানিয়েছেন, গত ১৭ এপ্রিল তাদের হুগো স্যাটেলাইটে দেখা গেছে বাংলাদেশের মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থেকে বিপুল পরিমাণ মিথেন নিঃসরণ হচ্ছে। তাদের ধারণা, এর পরিমাণ হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার কেজি।
প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি যে পরিমাণ বায়ুদূষণ ঘটায়, তার সমান দূষণ ছড়াচ্ছে মাতুয়াইলের বিশাল এই ময়লার ভাগাড় থেকে।
চলতি বছর বিশ্বের মধ্যে মিথেন নিঃসরণের অন্যতম হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্যারিস-ভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কায়রস এসএস চলতি মাসের শুরুর দিকে জানিয়েছিল, বিশ্বের শীর্ষ ১২টি মিথেন নিঃসরণের হার শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশের আকাশে।
মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থেকে ব্যাপক হারে মিথেন নিঃসরণের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল ব্লুমবার্গ। মন্ত্রণালয় এর জবাবে বলেছে, তারা এ বিষয়ে অবগত এবং এই সমস্যা নিরুপণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এক ইমেইলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল থেকে মিথেন নির্গমন মূল্যায়ন ও তা প্রশমন ব্যবস্থার পরামর্শ দিতে ওই কমিটিকে নিযুক্ত করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০১৩ সালের স্বল্পকালীন জলবায়ু দূষণ-হ্রাস পরিকল্পনায় গৃহীত পদক্ষেপে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মিথেন নিঃসরণ ১৭ থেকে ২৪ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৩৬ শতাংশ কমতে পারে। এছাড়া, গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক থেকে লিকের মাধ্যমে নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশ ড্যানিশদের সহায়তাও নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মিথেন গ্যাসের ভয়াবহতা বিষয়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেন গ্যাস নির্গমনের সমস্যাটি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৃদ্ধি পেয়েছে। মিথেন গ্যাসের ছড়িয়ে পড়ার হার যদি কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা না যায়, তাহলে তা আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে।’

