ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধবিরতি, লাভ-ক্ষতির সমীকরণ কি?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ টানা ১১ দিন রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজার রাস্তায় উল্লাসরত ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের এক ঊর্ধ্বতন নেতা। ইসরায়েলের সঙ্গে লড়াইয়ে বিজয় দাবি করে তিনি বলেন, এটা বিজয়ের উচ্ছ্বাস।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা জেরুজালেম ইন্সটিটিউট অব স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড সিকিউরিটি‘র (জেআইএসএস) গবেষক ড. জনাথন স্পায়ার মনে করেন চলতি এই সংঘাতে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে হামাস।

ড স্পায়ার বলেন, “এই দফার এই সংঘাতে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা তা হলো হামাস এই প্রথম ইসরায়েলের ভেতর আরব জনগোষ্ঠীকে খেপিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এটি এবার হামাসের বড় একটি কৌশলগত অর্জন এবং ইসরায়েলের বড় মাথাব্যথার কারণ।“
জেরুসালেম এবং ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন আরব শহরে ইসরায়েল বিরোধী যে বিক্ষোভ তা যে হামাসের ‘উস্কানি বা নেতৃত্বে হয়েছে‘ হয়েছে তা মনে করেন না সাদি হামদি। কিন্তু, তিনি বলেন এই সংঘাত হামাসকে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করবে।
“আমার মনে হয় রাজনৈতিকভাবে হামাসের অবস্থান শক্ত হবে। অনেক ফিলিস্তিনি মনে করবে যে হামাসের সাথে তাদের যত মতভেদই থাকুক না কেন অন্যায়ের প্রতিবাদে হামাস তাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। হামাস সাহস করে ই সংঘাত শুরু করেছে বলেই ফিলিস্তিনি ইস্যু আবার আন্তর্জাতিক এজেন্ডায় চলে এসেছে।”
সামি হামদি মনে করেন এই বিরোধের দুই বিজয়ী হলো “হামাস এবং নেতানিয়াহু।“
“হামাস আবারো দেখিয়েছে প্রতিরোধে কার্যকরী। ইসরায়েলি আয়রন ডোম ভেদ করেছে তাদের রকেট। এই প্রথম তারা লড়াইকে সীমান্ত পেরিয়ে তেল আবিবে নিয়ে গেছে যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হবে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে দু্ই পক্ষের মধ্যে যে কোন মীমাংসার ধরন বদলাবে।
“আর অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের বলছেন দেখ হামাস কত বড় হুমকি এবং তাদের হাত থেকে বাঁচতে হলে তাকেই প্রয়োজন। আবারো ভোট হলে তিনিই হয়তো জিতবেন।”
অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, চলতি এই সংঘাতের জেরে হঠাৎ যেভাবে দল-মত-স্থান নির্বিশেষে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে ঐক্য চোখে পড়ছে তা বিরল।
উল্লেখ্য পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে উত্তেজনা থেকে গত ১০ মে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। আল আকসা মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযানের জেরে হামাস রকেট ছোড়া শুরু করলে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। গত কয়েক দিনের সংঘাতে নারী ও শিশুসহ ২৩২ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে গাজা থেকে রকেটে ইসরায়েলের ১২ নাগরিকের নিহত হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা


