উড়ন্ত পেন্টাগনের আদ্যোপান্ত

রাগিব হাসান বর্ষণঃ যদি একদিন পারমানবিক বোমার আঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সকল স্থল যোগাযোগ ব্যবস্থা  ধ্বংস হয়ে যায় অথবা পেন্টাগনে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দেয়ার মত আর কেউ না থাকে তাহলে কি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইতি ঘটবে?

উত্তর হচ্ছে না, বর্তমান বিশ্বে নেতৃত্ব দানকারী মার্কিনিরা তখন আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় তাদের সকল কার্যক্রম চালাবে। পেন্টাগনের অনুরুপ এই বিমান মার্কিন প্রতিরক্ষার এক গোপন অস্ত্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর এই অত্যাধুনিক বিমান নিয়ে আজকের ফিচার।

E-4B Nightwatch বিমানটির পোশাকি নাম হলেও একে উড়ন্ত পেন্টাগন ও বলা হয়ে থাকে। চরম মুহূর্তে যখন মাটি থেকে যুদ্ধ পরিচালনা করার মত আর কোন উপায় থাকবে না তখন এই বিমানটি আকাশ থেকে কমান্ড সেন্টারের কাজ করবে।

আসুন এইবার একে একে জেনে নি এই উড়ন্ত পেন্টাগনের অবাক করা বিষয়গুলো

এই বিমানটির বিশেষত্ব হলো এটি একটি পারমানবিক বিস্ফোরনের পরেও আকাশে উড়তে পারে আর এর যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখতে পারে। বিমানটি মূলত একটি বোয়িং ৭৪৭ যা স্নায়ূ যুদ্ধের সময় ১৯৭৩-৭৪ সালে বানানো হয়েছিলো পরে এটিকে আরো আধুনিক করে বর্তমান রূপ দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহা, নেব্রাস্কাতে ৪ টি এমন বিমান ২৪ ঘন্টা তৈরি থাকে আকাশে উড়াল দেয়ার জন্য। কোন চরম অবস্থা যদি কখনো ঘটে যেমনঃ পারমানবিক বোমা যদি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আঘাত করে তখন বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি অব ডিফেন্স এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ এই তিনজনকে নিয়ে উড়াল দেবে আর একটি কমান্ড সেন্টারের মত কাজ করবে।

বিমানটিতে রয়েছে তিনটি ডেক যেখানে প্রায় ১১২ জন একসাথে থাকতে পারে এবং বিমানটি একটানা ১২ ঘন্টা আকাশে উড়তে পারে। বিমানটিকে আকাশে একঘন্টা উড়ানোর জন্য প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয় যা বাংলাদেশি টাকায় ১৪ কোটি টাকার সমান।

বিমানটির সকল যন্ত্রপাতিতে এন্টি নিউক্লিয়ার থার্মাল কোটিং করা, এর ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ও এমনভাবে বাননো যাতে এটি ইতেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস সহ্য করতে পারে। বিমানটিতে থাকার জায়গা, কনফারেন্স রুম, ব্রিফিং রুম, কমিউনিকেশন রুম সহ আরো অনেক কিছু আছে যা সাধারণ মানুষের অজানা।

বিমানটিতে এমন কিছু প্রযুক্তি আছে যার সাহায্যে পৃথিবীর যেকোন জায়গায় যোগাযোগ করা সম্ভব এমনকি যদি কখনো কোন সাবমেরিনের সাথে যোগাযোগ করার দরকার হয় তাহলে বিমানের পিছন থেকে একটা আলাদা এন্টেনা বের হয় যা সাগরের গভীরেও বিমানটিকে যোগাযোগ করতে সক্ষম করে তোলে। বিমানটিতে প্রায় ৬৪ টি বিভিন্ন ধরনের এন্টেনা আছে যা বিমানের উপরে সুরক্ষিত এই জায়গাকে “রে ডোম’ বলা হয়।

এত্ত আধুনিক বিমানে অবাক করার মত একটা ব্যাপার আছে আর সেটা হচ্ছে বিমানটি এত শক্তিশালী হলেও এতে কোন টাচ স্ক্রিন বা ডিজিটাল স্ক্রিন নেই, এর জায়গায় আছে ৭০ এর দশকের ভালভ আর সুইচ, খুব কম স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি বিমানটিতে আছে।

এটির কারণ বিমান পরিচালনাকারীরা যাতে কোনভাবেই অন্যমনষ্ক না হয়ে পড়ে তার জন্য। এছাড়া হ্যাকিং থেকে প্রতিরোধ করার জন্যেও বিমানটিতে কিছু ৭০ এর দশকের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

শান্তিকা্লীন সময়ে  মোট ৪টি E-4B এর মধ্যে একটি সেক্রেটারি অব ডিফেন্স ব্যবহার করে আর অপরটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান কে অনুসরণ করে প্রেসিডেন্টের বিদেশ সফরের সময়।

মূলত পারমানবিক যুদ্ধের কথা ভেবে বিমানটি  তৈরি করা স্নায়ূযুদ্ধের সময়, স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়েছে ১৯৯১ সালে এরপরেও বিমানটি এখনো চলমান।

অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে আরো অবাক করা প্রযুক্তির চমক দেখাবে মার্কিনিরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,