মঙ্গলগ্রহ থেকে মুছে যাওয়া প্রাণের অস্তিত্ব

রাগীব হাসান বর্ষণঃ

মঙ্গল গ্রহ নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল রহস্যময় একটা গ্রহের ছবি৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব আগে ছিলো নাকি এটা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হচ্ছে, এই গবেষণাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মার্স রোভার কিউরিওসিটি৷
সম্প্রতি নাসা জানাচ্ছে লাল গ্রহটিতে একসময় প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও তা হয়তোবা “মুছে ফেলা” হয়েছে৷ কথাটা অবাক শোনালেও এটাই সত্যি৷

মার্স রোভার কিউরিওসিটি এখন গ্রহটির গেইল ক্রেটরে অবস্থান করছে, এখানে বিজ্ঞানীরা অনেক স্তরীভূত পাথর পেয়েছেন যার কারণে ধারণা করা হচ্ছিলো এই পাথরের স্তর থেকে প্রাচীন কালের অনেক তথ্য পাওয়া যাবে কিন্তু তা হয়নি।

ধারণা করা হয় একসময় মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনেক জলাশয় ছিলো, এসব জলাশয়ে একসময় অনুজীব জাতীয় প্রানীর বাস ছিলো বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের, এইসব অনুজীবেরই জীবাশ্ম খুজছিলো কিউরিওসিটি কিন্তু দু:খের বিষয় সেখানে কোন জীবাশ্ম পায়নি কিউরিওসিটি।

জীবাশ্ম পাওয়া না যাওয়া সম্পর্কে টম ব্রিস্টো যিনি নাসার কিউরিওসিটি রোভার মিশনের একজন বিজ্ঞানী, বলেন এইসব লেকগুলোতে তারা অতিমাত্রায় লবণাক্ত পানি “ব্রাইন” পাওয়া গিয়েছে যার কারণেই এই অস্তরীভূত পাথরে জীবাশ্ম থাকলেও তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সাধারণত পাথরের উপরে ক্লে মিনারেল পাওয়া যাওয়ার কথা আর ক্লে মিনারেলই মূলত জীবাশ্মের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও এই ক্লে মিনারেলের স্তর ব্রাইনের কারণে মুছে গিয়েছে৷ ধারণা করা হচ্ছে গেইল ক্রেটরের লেকের স্তরীভূত পাথরের ক্লে মিনারেলের স্তরে প্রাচীনকালের সব তথ্য গ্রহটির আবহাওয়া পরিবর্তন, লেকগুলোর পানি শুকিয়ে যাওয়া এবং ব্রাইনের উপস্থিতির কারণেই পাথরগুলি থেকে ক্লে মিনারেলের স্তর মুছে গিয়েছে।

তিনি আরো বলেন গেইল ক্রেটর থেকে যে পরিমান পাথরে ক্লে মিনারেল পাওয়ার কথা তা খুবি কম এবং অন্যান্য এলাকা থেকে পাওয়া স্যাম্পলের তুলনায় তা অর্ধেক বলা চলে৷
উল্লেখ্য এই গেইল ক্রেটর নিয়ে অনেকদিন থেকেই গবেষণা চালাচ্ছে নাসা, তারা আসলে অকাট্য প্রমান খুজছে গ্রহটিতে অতীত প্রাণের অস্তিত্বের৷

সাময়িক সময়ের জন্য কিউরিওসিটি রোভার মিশন টিমের মাঝে হতাশা তৈরি হলেও ইতোমধ্যে তারা নতুন করে কাজে নেমে পড়েছেন এবং নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন চমকপ্রদ কিছু তথ্য পৃথিবীবাসীকে জানানোর৷

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,