মাকড়সার জালের রহস্য

ফিচার ডেস্ক:

ব্যস্ততার এই মানবজীবনে প্রকৃতির কিছু রহস্যময়তা থমকে যেতে বাধ্য করে মানুষকে। ক্ষুদ্র প্রাণী মাকড়সা কিভাবে জ্যামিতিক ছন্দে জাল বুনে তা ভাবায়নি এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। মাকড়সার জালের এই সৌন্দর্য দেখে অবাক না হওয়া অসম্ভব।

আর এর রহস্য উদঘাটনে জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন কীভাবে মাকড়সা তার আটটি পায়ের সাহায্যে অন্ধকারেও তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নির্ভুলতার এই জালকাঠামো তৈরি করে।

এই প্রাণী স্থপতিদের তুলনামূলক ছোট মস্তিষ্ক কীভাবে এই উচ্চ-স্তরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে তা জানার জন্য তারা সূক্ষ্ম রেজোলিউশনের বিশেষ ক্যামেরার সাহায্য নেয়। একটি ল্যাবে ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং ইনফ্রারেড লাইট সহ একটি ক্ষেত্র তৈরি করে সেই সেট-আপের মাধ্যমে তারা প্রতি রাতে ছয়টি মাকড়সার জাল তৈরি করার সময় পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করে।

মাকড়সার জাল মূলত রেশম। মাকড়সার দেহে এই রেশম তৈরি করার জন্য বিশেষ এক গ্রন্থি থাকে এদের তলপেটে।এরা তরল রেশমকে খুব পাতলা সুতোয় পরিণত করে নির্গত করতে পারে। সুতাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়।

সমস্ত মাকড়সা জাল তৈরি করে না কিন্তু যেগুলি করে তাদের আচরণগুলি বেশ একই রকম। “যদিও চূড়ান্ত কাঠামোটি একটু ভিন্ন হয়, তবে তারা জাল তৈরি করার জন্য যে নিয়মগুলি ব্যবহার করে তা একই,” গর্ডাস বলেন।

তিনি জানান তাদের সবার একই নিয়ম ব্যবহার করা নিশ্চিত করে যে নিয়মগুলি তাদের মস্তিষ্কে এনকোড করা হয়েছে। মাকড়সাদের জাল বোনা এদের সহজাত প্রবৃত্তি। বলা যায় এটি জন্মগত গুণ। এই বিশেষ আকৃতি পুরো জালটিকে একত্রিত করে রাখে। এখন আমরা জানতে চাই কিভাবে সেই নিয়মগুলি নিউরনের স্তরে এনকোড করা হয়।

সাবরিন জাহান

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3