মাছ চাষে সফল এক নারী উদ্যোক্তা খায়রুন নাহার (ভিডিও)

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে খায়রুন নাহার ইতোমধ্যে বেশ অনেক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। মাছ চাষে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ২০১৫ সালে জাতীয় পুরস্কারে রুপা পদক লাভ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের অর্থায়নে তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মহেচ্ছাতুল আঠারবাড়ীতে গড়ে তুলেছেন সৃষ্টি ফেয়ার মৎস্য হ্যাচারি।

নিজ গ্রামের ১১টি পুকুরে তার প্রকল্প এরই মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ১১টি পুকুরে বর্তমানে রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্লাস কার্প, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, শিং, মাগুর, গুলশা মাছের চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে তার প্রকল্পে উৎপাদিত মাছের বিক্রির পরিমাণ ১ কোটি টাকার উপরে পৌঁছবে বলে আশা করছেন উদ্যমী এই নারী উদ্যোক্তা।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০১২ সালে নিজ উদ্যোগে জোগাড় করা ১ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন মাছের রেণু পোনা উৎপাদন। এ কাজে তার পাশে ছিলেন স্বামী। প্রচুর পরিশ্রম করে হ্যাচারিটি প্রতিষ্ঠা করলেও প্রথম ছয় মাসে তেমন ভালো ফল পাননি। কিন্তু তাতে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেননি খায়রুন নাহার। তত দিনে অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে। ভেঙে না পড়ে আবারো বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধারকর্জ করে গ্রামে পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। পরের বছর ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের ঈশ্বরগঞ্জ শাখা ৪ লাখ টাকা নারী উদ্যোক্তা ঋণ পান তিনি। সোনালী ব্যাংকের অর্থায়নে খায়রুনের মাছ চাষ প্রকল্প বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে তত দিনে। ইতোমধ্যে খায়রুনের মাছ চাষ প্রকল্পে ভালো ফল আসতে শুরু করে। তার মাছ চাষের সাফল্য দেখে এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৮ লাখ টাকায় উন্নীত করে। খায়রুনের মাছ চাষ প্রকল্পের পুকুরের সংখ্যা ৪ থেকে বেড়ে ১১টিতে পৌঁছেছে বর্তমানে। তার প্রকল্পের আয়তন ১৭ একর।

এ বছর তার খামারে উৎপাদিত মাছ বিক্রির পরিমাণ ১ কোটি টাকার ওপরে পৌঁছবে বলে মনে করছেন এই সফল নারী উদ্যোক্তা। মাছ চাষ প্রকল্পের পাশাপাশি খায়রুন বর্তমানে বিদ্যুৎবিহীন গ্রামে সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত সেচ প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

নিজ এলাকা ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়াও নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, নরসিংদীর বিদ্যুৎসুবিধাবঞ্চিত গ্রামে সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত সেচ প্রকল্প চালুর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণ জনজীবনে নতুন পথের সূচনা করতে সচেষ্ট রয়েছেন এই পরিশ্রমী নারী উদ্যোক্তা। তার এ নতুন উদ্যোগে আগের মতো আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে পাশে দাঁড়াবে সোনালী ব্যাংক, আশা করছেন খায়রুন। এ ছাড়াও তিনি নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামীণ নারীদের সংগঠিত করে একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছেন।

গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করতেই তার এ উদ্যোগ, তিনি জানালেন। তার নতুন উদ্যোগে অনেক গ্রামীণ নারীই সাড়া দিয়েছেন ইতোমধ্যে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে নারীর সর্বাত্মক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এখন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তার মতে অনেক নারীই এখন ঘরের চার দেয়ালের মাঝে নিজেদের বন্দি রাখতে রাজি নন। নিজের যোগ্যতা আর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন করতে তারা অনেকটাই মনোযোগী এখন। নানা প্রতিষ্ঠানিক বাধা, সামাজিক সংস্কার, পুরনো প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি উপেক্ষা করে যারা এর মধ্যে নানা উদ্যোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন তারা সাফল্যের নানা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করে তাহলে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন তারা।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: