সৈকতে হাজার হাজার মরা পটকা: দূষিত কুয়াকাটা
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
কুয়াকাটা সৈকতে নানাভাবে বিপন্ন হচ্ছে জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য। বেলাভূমিতে পর্যটকদের গাড়ি বহরের অবাধ বিচরণ, জেলেদের অসচেতনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিলুপ্ত হচ্ছে জলজ প্রাণী।
কুয়াকাটা সৈকতে চার-পাঁচ দিন ধরে কয়েক হাজার মরা পটকা মাছ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ঝাউবাগান, লেম্বুর বন, গঙ্গামতি, কাউয়ারচরসহ গোটা সৈকতের এমন দৃশ্য দেখে পর্যটকরা অস্বস্তিতে পড়ছেন। মরা মাছ প্রচণ্ড রোদের তাপে অর্ধগলিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বন বিভাগের গঙ্গামতি বিটের কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান জানান, পটকা সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা তাদের কাছে নেই।
ওই এলাকার জেলে সোলায়মান হাওলাদার ও আলামিন জানান, বঙ্গোপসাগরের মোহনা রামনাবাদ ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সমুদ্রে অবাধে চিংড়ি শিকারি রয়েছে। ওইসব জেলের জালে আটকা পড়ে মারা যেতে পারে
এসব পটকা মাছ। পরে জোয়ার-ভাটায় ভেসে এসে এগুলো কুয়াকাটা সৈকতে আটকা পড়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. সুলতান মাহমুদ বলেন, পটেট্রাডোন কাডকুটিয়া প্রজাতির এসব পটকা মাছ অত্যন্ত বিষাক্ত। এদের ফুলকার কাছে যে বিষের থলি রয়েছে, তা সায়ানাইডের চেয়েও বিষাক্ত। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অসচেতনতায় বিলুপ্তি হচ্ছে ওইসব জলজ প্রাণী। এসব পটেট্রাডোন কাডকুটিয়া প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন দ্বারা সংরক্ষিত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মৃত পটকা মাটিচাপা দেওয়ার পরামর্শ দেন এ শিক্ষক।
কলাপাড়া উপজেলা জেলে ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু বলেন, জেলেদের অসচেতনতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এসব পটকা মাছের মৃত্যু হয়েছে কি-না তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের খতিয়ে দেখা উচিত। দ্রুত সৈকত থেকে মৃত পটকা অপসারণের তাগিদ দেন তিনি।
পটুয়াখালী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অজিত কুমার রুদ্র বলেন, সমুদ্রের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই প্রজাতির পটকা বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।

