আরেকটি যুদ্ধে জড়ালো যুক্তরাষ্ট্র?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ম্যাসনের উপর ক্রুজ মিসাইল হামলা চেষ্টার জবাবে ইয়েমেনের সমুদ্র উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বেশ কয়েকটি রাডারের উপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এ হামলার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে গত ১৮ মাস ধরে চলা সংঘর্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িয়ে পড়লো যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্সের।
পেন্টাগন বলছে, রাডারগুলো পুরোপুরি ধংস হয়ে গেছে বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছে। আপাতত এর বেশি কিছু বলেননি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিটজি থেকে এ হামলা চালানো হয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের যুদ্ধজাহাজে হামলা চেষ্টার সময় এ রাডারগুলো সক্রিয় ছিল। রাডারগুলো যেসব এলাকায় ছিল, সেখানে সাধারণ মানুষের বসতি খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, পাল্টা মিসাইল হামলার সময় সাধারণ মানুষের হতাহতের ব্যাপারে সতর্ক ছিল তারা।
ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির একজন গবেষক মাইকেল নাইটস রয়টার্সকে বলেছেন, হুথি বিদ্রোহীরাই এ হামলা চালিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা স্বয়ং এ হামলা অনুমোদন করেছেন। ইয়েমেনে বহুদিন ধরে বিদ্রোহী গোষ্টিগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। হুথি বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ করে, এমন এলাকায় এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা।
পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র পিটার কুক জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ সচল রাখতে, আমাদের সেনা ও জাহাজকে রক্ষা করতে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের উপর এ ধরণের আঘাত আসলে তার যথাযথ জবাব দেয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, গত চার দিনে অন্তত দুইবার ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ইউএসএস ম্যাসনের উপর মিসাইল হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়। দুইবারই জাহাজটি সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তবে হুথি বিদ্রোহীরা ইউএসএস ম্যাসনের উপর অাগের হামলাটির দাবি অস্বীকার করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিচালনাধীন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক এক যুদ্ধজাহাজ ধংসের দাবি করেছে।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর আল হাদি সরকারকে উৎখাতে বহুদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।
এর আগে ইয়েমেনে সংঘর্ষে জড়িয়েছে সৌদি আরব। দেশটির বিমান হামলায় বহু সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে যেটিকে যুদ্ধাপরাধের সাথে তুলনা করেছেন অনেকে। সৌদি আরবের সাথে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আসতে পারে, কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
হুথিদের বিরুদ্ধে এ মিসাইল হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি যুদ্ধের দ্বার উন্মুক্ত করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

