বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরাতে চাইলে প্রতিহত করা হবে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেকার হোস্টেলে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য কেউ সরাতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

২২ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় নিজের কার্যালয় নবান্ন ছেড়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দেশটির সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের দুই বাংলার প্রেরণা। তার ভাস্কর্য সরানোর প্রশ্নই ওঠে না। কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যের কোনো ইজারা হয় না। বঙ্গবন্ধু দুই বাংলার কাছেই শ্রদ্ধেয়, স্মরণীয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের প্রেরণা। তার স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে সংরক্ষণ করাই আমাদের কর্তব্য। এর কোনো রকম বিরোধিতা বরদাশত করা হবে না। কেউ প্রতিরোধ তৈরি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় কলকাতায় উদযাপিত হয়েছে।

এই আয়োজনের পর সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরানোর দাবি তোলে।

১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বেকার হোস্টেলে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় থাকতেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৫-৪৬ সালে সরকারি এই হোস্টেলের ২৪ নম্বর কক্ষ ছিল তার ঠিকানা। মুসলিম লীগের রাজনীতির হাতেখড়ি নেন এই বেকার হোস্টেলে থেকেই। ইসলামিয়া কলেজের নাম বদলিয়ে এখন নামকরণ করা হয়েছে মাওলানা আজাদ কলেজ।

১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে গড়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষ। এই স্মৃতিকক্ষে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত খাট, চেয়ার, টেবিল ও আলমারি। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ২৪ নম্বরের পাশের ২৩ নম্বর কক্ষটিকে যুক্ত করে স্মৃতিকক্ষ গড়ার উদ্যোগ নেন। ১৯৯৮ সালের ৩১ জুলাই বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক সত্যসাধন চক্রবর্তী।

  •  
  •  
  •  
  •