ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এরপর মিয়ানমার যাওয়ার কথা রয়েছে তার। গত ডিসেম্বরে কিডনিতে অস্ত্রোপচার হয় সুষমার। এর কয়েক মাস আগে থেকেই অসুস্থতার কারণে সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন চিকিৎসকরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইতালিতে তিনি শেষবারের মতো বিদেশ সফর করেছিলেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, বাংলাদেশে যাতায়াতের ধকল যেহেতু কম, তাই প্রথম সফর হিসেবে ঢাকাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপ্রিল মাসে নয়াদিল্লি সফরের পর বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে মোদি সরকার।
তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যে সম্পর্ককে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পরিকাঠামো নির্মাণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন চুক্তির রূপায়ণের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারত নতুন দফায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশকে। সে ঋণের আওতায় পরিকাঠামো ক্ষেত্রে কোন প্রকল্পগুলো আসবে তা চিহ্নিত করার কাজও শুরু হচ্ছে। আগামী এক বছর দুই দেশের মধ্যে যে বিপুল কর্মযজ্ঞ চলবে তার প্রাক্কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আসন্ন ঢাকা সফর।
এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন সুষমা। পাশাপাশি এ কথাও জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে সঙ্গে নিয়েই এ ব্যাপারে এগোতে চাইছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে যাওয়ার আগে মমতার সঙ্গে কথা বলবেন সুষমা। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তোর্সা সংক্রান্ত বিকল্প প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। এ ব্যাপারে রিপোর্ট তৈরি হলে মমতার সঙ্গে সেটি নিয়ে বসা হবে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এ কথা বলে আসলে মমতার প্রতি একটি ইতিবাচক বার্তাই দিতে চেয়েছেন সুষমা। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি বাতিল করে অন্য কোনো নদীর পানি বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, ভারত বা বাংলাদেশ কারও পরিকল্পনার মধ্যে নেই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে বাংলাদেশ প্রশ্নে কিছুটা নরম করার কৌশল নিচ্ছে মোদি সরকার।
তিস্তা নিয়ে তার অনড় মনোভাব কমাতে মমতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে চাইছেন সুষমা। আগামী বছরের শেষে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়িত করতে উদগ্রীব ভারত।

