ড্রাইভিংয়ে হিজাবের বাধ্যবাধকতা থেকে বেরিয়ে আসছেন ইরানী নারীরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে গাড়ি চালানোর সময় নারীদের জন্য হিজাব পরার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দিন দিন এ নিয়ম থেকে বের হয়ে আসা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। একইসাথে ব্যক্তিগত জায়গায় নারীদের পোশাক পরার স্বাধীনতা নিয়েও দেশজুড়ে বিতর্ক বাড়ছে।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে জনসম্মুখে হিজাব পরা নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু এ নিয়ম বাস্তবায়ন করতে দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেশ ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। দেশটির নারীরা ইতোমধ্যেই হিজাবের বাধ্যবাধকতা ভেঙে দিতে শুরু করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হিজাব ছাড়া নারী চালক এখন তেহরানের রাস্তায় বেশ নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।
হিজাব নিয়ে নারীদের সাথে দেশটির পুলিশের সংঘর্ষ, কথা কাটাকাটির ঘটনাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে নারীরা কিছুতেই হিজাব পরতে চান না। এ সময়ে পুলিশের সাথে তাদের বাকবিতন্ডা বেশি হয়। পুলিশ প্রায়ই হিজাব ছাড়া নারী ড্রাইভারদের গাড়ি থামিয়ে জরিমানা করছে, এমন-কি অনেক সময় তাদের গাড়িও আটকে রাখছে। তবে পরিস্থিতি এখন যেরকম দাঁড়িয়েছে এবং হিজাব নিয়ে নারীরা এখন যে হারে প্রতিবাদ করছে, তাতে দেশটি হয়তো তাদের দীর্ঘদিনের হিজাব নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হতে পারে।
ইরানের তুলনামূলক উদারবাদী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ব্যক্তিগত জায়গায় পোশাক পরার ক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতা থাকা উচিত এবং পুলিশ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘ইসলাম রক্ষা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশ কোনো নারীকে থামিয়ে তাকে বলতে পারে না যে, আমি অপনাকে ইসলামি আইন অমান্য করায় জরিমানা করলাম। এটা পুলিশের কাজ নয়।’
এখন দেশটিতে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে কোনটি ব্যক্তিগত জায়গা আর কোনটি নয়। অনেকের মতে, গাড়ির ভেতরের জায়গা ব্যক্তিগত জায়গার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু পুলিশ ও বিচার বিভাগ সেটি মানছে না।
ইরানের বিচার বিভাগের ডেপুটি প্রধান হাদি সাদেঘি বলেন, গাড়ির যে অংশ বাইরে থেকে দেখা যায় না, সেটি ব্যক্তিগত জায়গার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কিন্তু যে অংশ বাইরে দেখা যায়, সেটি কিছুতেই ব্যক্তিগত জায়গা হতে পারে না।
যেহেতু গাড়ির চালকের আসনটি বাইরে থেকে দেখা যায়, তাই এই কর্মকর্তা নারী চালকের জন্য হিজাবের বাধ্যবাধকতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। হাদি সাদেঘির এ মন্তব্যের পর দেশজুড়ে নারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনে তার বক্তব্যকে বিদ্রুপও করেন অনেকে।
কোনটি ব্যক্তিগত জায়গা আর কোনটি নয়, এটি নিয়ে দেশটিতে এখন বড় বিতর্ক চলছে। ১০ জুলাই সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ‘প্রাইভেট অর নট প্রাইভেট?’ ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গাড়িতে কোনটি ব্যাক্তিগত জায়গা আর কোনটি নয়, এ প্রশ্নটি এখন ইরানে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার দাবি রাখে।’
ইরানের একজন আইনজীবী হোসেন আহমেদনেজাদ বলেন, নাগরিকের জন্য কোনটি ব্যাক্তিগত জায়গা আর কোনটি নয়, এটি দেশের সংসদের ‘সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ’ করে দেওয়া উচিত।

