নেপালে ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু

নিউজ ডেস্কঃ

নেপালে রবিবার ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এক দশক আগে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ অবসানের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসান ঘটবে বলে দেশটির জনগণ আশা করছে

নেপালে যুদ্ধ পরবর্তী একটি শান্তি চুক্তির আওতায় নতুন সংবিধানের অধীনে প্রথমবারের মতো দুই দফায় জাতীয় ও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নতুন সংবিধান অনুযায়ী রবিবার নেপালে প্রথম দফা ভোট চলছে এবং ৭ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় দফা ভোট, এরপর ফলাফল। দুরূহ গণনাপদ্ধতির জন্য ফল ঘোষণায় কয়েকদিন লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন।

২০০৬ সালে এই চুক্তির মধ্য দিয়েই ১০ বছরে মাওবাদী বিদ্রোহী তৎপরতার অবসান ঘটে এবং নেপাল রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।

গত নয় বছর নেপাল ১০ বারে নয় জন প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী শাসনে ছিল। কাঠমান্ডুর বিখ্যাত রাজপ্রাসাদের কাছের মুদি দোকানদার বীরেন্দ্র তেওয়ারির আশা, এবার দেশটিতে স্থিতিশীলতা আসবে।

ভোরবেলা থেকেই রাজধানী কাঠমান্ডুর পূর্বাঞ্চলে চাওতারার শহরের বাসিন্দারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

নেপালের এই নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াই করছে দুটি জোট। শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বে নেপাল কংগ্রেস পরিচালিত ‘গণতান্ত্রিক জোট’ বনাম কে পি অলির কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং পুষ্পকমল দহলের ওরফে প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব মাওয়িস্ট সেন্টারসহ বাম দলগুলোর মঞ্চ ‘বাম জোটে’র মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

নেপালের অন্যতম প্রধান এই দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী জোট গঠনের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ অভিন্ন দল গঠনেরও ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস ও দুই কমিউনিস্ট পার্টি পালাক্রমে নেপালের ক্ষমতার অধিকারী হয়েছে।

নতুন সংবিধানে নেপালকে ফেডারেল, অর্থাৎ সাতটি প্রদেশে ভাগ করা হয়েছে। এছাড়া হিন্দু রাষ্ট্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষণার পর দেশটিতে এটাই প্রথম নির্বাচন।

এবারই প্রথম নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতির ভিত্তিতে দুই দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রথম দফায় আজ ৩২টি জেলায় এবং দ্বিতীয় দফায় আগামী ৭ ডিসেম্বর ৪৫টি জেলায় ভোট হবে। নেপালে ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ। নির্বাচনে ভোটাররা ২৭৫ জন সাংসদের পাশাপাশি সাতটি আলাদা প্রদেশে প্রাদেশিক সংসদের প্রতিনিধিও ঠিক করবেন।

প্রথম দফা ভোটের আগে দেশটিতে বেশ কিছু বিস্ফোরণ ও বোমাবাজির খবর পাওয়া গেছে। মাওবাদী একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে এজন্য দায়ী করা হচ্ছে।

শুক্রবার থেকে ভোট শুরুর আগ পর্যন্ত ৩০টির মতো বিস্ফোরক নিস্ক্রিয় করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নৈন রাজ দাহাল জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •