মিয়ানমারকে আইসিজের কথা স্মরণ করিয়ে দিল জাতিসংঘ
নিউজ ডেস্কঃ
রোহিঙ্গা ঢলের চার বছর পূর্তির দিনে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) চলমান মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘ। মিয়ানমারের জাতিসংঘ কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে গতকাল মঙ্গলবার এসংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আইসিজের নির্দেশনার পরও মিয়ানমারে ২৫ রোহিঙ্গাসহ কমপক্ষে ১৪৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বর্বর ‘নির্মূল অভিযানে’ ব্যাপক মাত্রায় হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও গণবাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। এদিকে নিরাপত্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন সংঘাতে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ব্যাংককে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেমস রোডেহেভার বলেন, সংঘাতে সাত লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। ওই ঘটনার তিন বছর পর মিয়ানমারের ভেতরে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তেমন কিছুই করা হয়নি।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। জেমস রোডেহেভার বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার ও প্রার্থী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তা মিয়ানমার সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।

