ভারতে শিশুশ্রম বেড়েছে মহামারী করোনায়

নিউজ ডেস্কঃ

নয়াদিল্লির একটি গাড়ি মেরামত প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে আকাশ নামে একটি শিশু, যার হাত রঙ ও ধুলোয় ভরা। সে যদিও একা নয়, ভারতে এমন লাখ লাখ শিশু শ্রমিক আছে, যারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সী এমন এক কোটিরও বেশি শিশু কাজ করছে বিভিন্ন খাতে। কখনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বা মিল-কলকারখানায় আবার কখনো দেখা যায় রেস্টুরেন্টে টেবিল পরিষ্কার করছে কিংবা জুতা পলিশ করছে।

চলতি সপ্তাহে বেশকিছু শিশুশ্রম কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। মূলত বাচপান বাঁচাও আন্দোলন (বিবিএ) নামে একটি শিশু অধিকারবিষয়ক সংস্থার সঙ্গে তারা এ পরিদর্শন করেছে। পুলিশের সঙ্গে মিলে নয়াদিল্লির বিভিন্ন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে বিবিএ, যার প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার সকালের দিকে বাচপান বাঁচাও আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ আরশাদ মেহদির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি একটি অটোশপে যায়। সেখান থেকে আকাশকে (প্রকৃত নাম নয়) ডেকে আনা হয়। গ্যারেজে কাজের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করে আকাশ। কিন্তু হাতে লেগে থাকা রঙ ও ধুলাবালির দিকে ইঙ্গিত করলে তখন চুপ থাকে শিশুটি। বিভিন্ন গ্যারেজ ও রেস্টুরেন্ট থেকে আকাশসহ ১১ শিশুকে চিহ্নিত করা হয়। ১৮ বছরের নিচে ওই শিশু-কিশোররা গ্যারেজ ও রেস্টুরেন্টে দিনে ১৬ ঘণ্টা করেও কাজ করে।

ওই শিশু-কিশোরদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রত্যেককে তাদের নাম, বয়স এবং যে রাজ্য থেকে এসেছে, কত ঘণ্টা কাজ করে এবং কতটুকু মজুরি পায়, এ তথ্যগুলো লিখতে বলা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, করোনা পরীক্ষা ও সম্পূর্ণ বেতন সংগ্রহ করে তাদের নিজ রাজ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তারা বেশির ভাগই এসেছে উত্তর ভারতের দরিদ্র রাজ্যগুলো থেকে, যাদের পরিবার সেখানকার গ্রাম ও শহরগুলোয় বসবাস করে।

এ শিশু শ্রমিকদের নিয়োগদাতা কোম্পানির বিরুদ্ধে হয়তো শিশুশ্রমের মামলা হবে। কিন্তু এসব মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তি ভারতে খুবই বিরল ঘটনা। ভারতের শিশুশ্রম আইনে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনো কাজে নিয়োগ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরদেরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না। কিন্তু ভারতের নিয়োগদাতারা এ আইনের প্রতি থোরাই কেয়ার করে।

গত এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ শিশুকে উদ্ধার করেছে বাচপান বাঁচাও আন্দোলন। কিন্তু মহামারীর কারণে অধিকসংখ্যক শিশু-কিশোর কাজে যোগ দিচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এমনটাই জানান বিবিএর সদস্য ধনঞ্জয় টিঙ্গাল।

কয়েক মাস ধরে চলা লকডাউনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি। লাখ লাখ ভারতীয় তাদের চাকরি হারিয়েছে। এতে দরিদ্র পরিবারের অনেক শিশু কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন কষ্টকর কাজ করে পরিবারের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। এসব শিশুকে বেশির ভাগ সময়েই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে বাধ্য করেন নিয়োগদাতারা। তুলনায় বয়স্কদের চেয়ে অনেক কম মজুরি দেয়া হয়। কর্মস্থলে বিভিন্ন শোষণ ও নিগ্রহের শিকার হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা।

টিঙ্গাল বলেন, গ্রামগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। পরিবারগুলো এখন টিকে থাকতে উপার্জনক্ষম সব হাতকেই ব্যবহার করছে। আমরা যদি এখনই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করি তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: