যুদ্ধে আমরা জিতেছি, হেরেছে আমেরিকাঃ তালেবান
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আফগানিস্তানে দুই দশকের সবচেয়ে দীর্ঘ যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকীর আগেই আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (১৪ এপ্রিল) তিনি এই ঘোষণা দেন।
বাইডেনের এই ঘোষণাকে নিজেদের বিজয় ও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় হিসেবে দাবি করেছে তালেবান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন তালেবানের সিনিয়র নেতা হাজী হেকমত। তিনি বলেছেন, যুদ্ধে আমরা বিজয়ী হয়েছি, যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে।
তালেবানের সিনিয়র এই নেতা গত শতকের ৯০-এর দশকে সশস্ত্র ওই সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। সেসময় তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতো। বর্তমানে তিনি বালখ জেলার তালেবানের ছায়া মেয়র।
হাজী হেকমত বিবিসি’কে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে জয়লাভ করেছি এবং যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সকল কিছুর জন্যই প্রস্তুত আছি। আমরা শান্তির জন্যও প্রস্তুত আছি, একইসঙ্গে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত আছি।’
তালেবান গোষ্ঠী একইসঙ্গে একদিকে আফগান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং অন্যদিকে মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে এর পরের পরিস্থিতি ঠিক কী হবে?
হেকমতের ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি সরকার চাই, যেটা ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী চলবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই অব্যাহত রাখবো।’
আফগানিস্তানের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তালেবান ক্ষমতার ভাগাভাগিতে যাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হেকমত বলেন, কাতারে অবস্থানরত তালেবানের রাজনৈতিক নেতারা এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা সেটাই মেনে নেবো।
তালেবানরা নিজেদেকে এখন আর বিদ্রোহী বলে মনে করে না। নিজেদেরকে তারা ‘সরকার গঠনে অপেক্ষমান’ (গভার্নমেন্ট-ইন-ওয়েটিং) বলে মনে করে থাকে। নিজেদেরকে পরিচয় দিতে গিয়ে তারা ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান’ কথাটি উল্লেখ করে।
তালেবানের স্থানীয় গোয়েন্দা প্রধান আমির সাহিব আজমল বিবিসি’কে বলেন, ‘আফগান সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদেরই আমরা খুঁজছি। আমরা তাদেরকে আটক করবো এবং (তালেবান পরিচালিত) আদালতের কাছে হস্তান্তর করবো। এরপর আদালতই ঠিক করবে- তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে।
সূত্র: বিবিসি

