পাপুয়া নিউগিনি নিয়ে আবারও ক্ষমতার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া এবং চীন

রাগিব হাসান বর্ষণঃ পাপুয়া নিউগিনির কোভিড ১৯ পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়া এবং চীনের প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের দীর্ঘ বিরোধের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাপুয়া নিউগিনিতে অনেকদিন থেকেই নিজেদের স্ব স্ব প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টায় আছে দুটি দেশ। বর্তমান কিছু ঘটনার কারণে আবারো টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া এবং চীনের মধ্যে।

এশিয়ার মাঝের রাষ্ট্র পাপুয়া নিউগিনি অস্ট্রেলিয়া এবং চীন দুই দেশের জন্যই সামরিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যদিও অস্ট্রেলিয়ার সাথে পাপুয়ানিউগিনির সম্পর্ক অনেক পুরাতন। কিন্তু তারপরেও বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে চীন পুরোদমে চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটিকে নিজেদের বলয়ে আনার জন্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন চীন নিউগিনিকে নিজেদের আয়ত্বে আনার ক্ষেত্রে তাইওয়ান একটি ফ্যাক্টর, কারন নিউগিনি তাইওয়ানের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং তাইপের (তাইওয়ানের রাজধানী) সাথে দেশটির সুসম্পর্ক বিদ্যমান।

এই প্রতিযোগিতাতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে আছে যদিও। তবে চীন বসে নেই চীন, এগিয়ে থাকতে চাচ্ছে তারাও। এ লক্ষ্যে চীন দেশটিতে ৩ লক্ষ ডোজ ভ্যাক্সিন পাঠায় সম্প্রতি এবং অস্ট্রেলিয়া পাঠায় ৬ লক্ষ ডোজ এবং আরো ১৫ মিলিয়ন ডোজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। মূলত অস্ট্রেলিয়া তাদের অক্সফোর্ড-এস্ট্রোজেনেকার উদ্বৃত্ত টিকাগুলোই নিউগিনিকে দেবে বলে জানিয়েছে।

মহামারীর শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া নিউগিনিতে নিজেদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়োজিত করেছে পরামর্শ প্রদানের জন্য। এদিকে চীন এই বছরের শুরুর দিকে নিউগিনিকে টিকা সরবারহের প্রস্তাব দেয় এবং চীন তাদের টিকার ট্রায়ালের ফলাফলও নিউগিনিকে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় অনুমোদনের জন্য কারণ দেশটির টিকা তখনো বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা কতৃক অনুমোদিত ছিলো না।

উল্লেখ্য চীন তাদের ট্রায়ালের ফলাফলকে খুব গোপন রেখেছে বরাবরই তারপরেও সেই ফলাফল নিউগিনিকে দেবার ঘোষনাতে অনেকেই অবাক হয়েছিলো। এতকিছুর পরেও টিকার অনুমতি দিতে মে মাস পর্যন্ত সময় নেয় নিউগিনি সরকার, চীন তখনি টিকার অনুমতিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারন হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার অযাচিত হস্তক্ষেপ কে দায়ী করে। জুলাই মাসের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় অস্ট্রেলিয়া সরকার পাপুয়া নিউগিনির ভ্যাক্সিন কর্মসূচিতে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগটি করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র।

অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক মন্ত্রী সম্প্রতি সিএনএন কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন যে পাপুয়া নিউগিনির নিজেদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। এই প্রতিযোগিতার ফলে পাপুয়া নিউগিনির লাভ হচ্ছে বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা কারণ মাত্র ৭ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটিতে এখন ভ্যাক্সিনের কোন সংকট নেই বললেই চলে যেখানে অনেক দেশই এখনো ভ্যাক্সিনের নাগালই পায়নি।

পরিশেষে এটাই দেখতে হবে নিউগিনিতে আসলে কার আধিপত্য বিস্তার লাভ করে, তবে অস্ট্রেলিয়া বা চীনের মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ী মনে হলেও এখনি দুই দেশের কোনটিই হাল ছেড়ে দিচ্ছে না এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,