ইয়েমেনে অন্যরকমভাবে ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত

রাগিব হাসান বর্ষণঃ পশু কুরবানির মাধ্যমে সারা বিশ্বে ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত হলেও ইয়েমেনে চিত্র একটু ভিন্নরকম, এখানে ঈদ উপলক্ষে মানুষের আনন্দ করাটাও বিলাসিতা মনে হতে পারে অনেকের কাছে। হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা বেষ্টিত শহর তায়েজ, এই শহরের বাসিন্দা আল ফাদেল দুইটি মুরগী দিয়ে কুরবানির ঈদ পালন করবেন তার পরিবারের সাথে কারণ তার পশু কুরবানির সামর্থ্য নেই।

শুধুমাত্র ফাদেল না অধিকাংশ ইয়েমেনীর এখন একই রকম অবস্থা। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে পরিস্থিতি দিনের পর দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে ইয়েমেনে, জাতিসংঘ সম্প্রতি ইয়েমেনের মানবাধিকার সংকটকে নিকৃষ্টতম এবং উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে বিশ্ববাসীকে। ক্রমাগত যুদ্ধের ফলে ইয়েমেনী শিশুদের মাঝে অপুষ্টি তীব্র আকার ধারণ করেছে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থার এক তথ্য মতে অপুষ্টির জন্য শিশু মৃত্যুর হার আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বর্তমানে।

এইরকম পরিস্থিতিতে বেচে থাকাটাই একটা চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন আল ফাদেল, তিনি বলেন ইয়েমেনী মুদ্রার মান এখন তলানিতে, একটি উট কিনতে গেলে ২ লক্ষ ইয়েমেনী রিয়েল খরচ করা লাগে যা এখন অধিকাংশ ইয়েমেনীর পক্ষে ব্যায় করা অসম্ভব। বর্তমানে এক হাজার রিয়েলের মান এক মার্কিন ডলার, এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনী মুদ্রা প্রায় অচল হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে, ইয়েমেনে বর্তমানে ৫০ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে এবং ৫ লক্ষ লোক দুর্ভিক্ষের মত অবস্থাতে জীবনযাপন করে যাচ্ছে এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে।

মানবেতর এই অবস্থায় পশু কুরবানি করে ঈদ পালন করাটা অসম্ভব আল ফাদেলের মত ইয়েমেনীদের জন্য তাই তারা পশুর জায়গায় মুরগী দিয়েই এইবার কুরবানির রীতি পালন করবেন যদিও অনেক পরিবারের সেই সামর্থ্যটুকুও নেই। যুদ্ধহীন দেশে স্বাভাবিক ভাবে ঈদের আনন্দ করার স্বপ্ন নিয়েই বেচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ইয়েমেনীরা, একইসাথে মানবাধিকারের এই চূড়ান্ত সংকট শেষ করার জন্য বিশ্বনেতাদের উদারতা ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,