পেগাসাস স্পাইওয়্যার; তালিকাতে আছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মঞ্জিলা পলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি কোম্পানি বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে তাদের পেগাসাস স্পাইওয়্যার বিক্রি করছে। যা দিয়ে মূলত মানুষের ফোনে আড়িপেতে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

২০১৬ সাল থেকে ৫০ হাজার ফোন নম্বরকে এই স্পাইওয়্যার টার্গেট করেছে। কোথা থেকে এই ফোন নম্বরগুলো পাওয়া গেছে, সত্যিকার অর্থে কতগুলো ফোন হ্যাকড হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে তারা কোনো ভুল করেনি বলে জানিয়েছে এনএসও গ্রুপ।

তাদের দাবি, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারে এই ম্যালওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। এটি কেবল সামরিক বাহিনী, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করা হচ্ছে, যাদের মানবাধিকার রেকর্ড ভালো।

এনএসও গ্রুপের সফটওয়্যার যে কোনো ফোন কল রেকর্ড, বার্তা কপি ও গোপনে ভিডিও ধারণ করতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন কোম্পানির উদ্ভাবিত সবচেয়ে শক্তিশালী স্পাইওয়্যার পেগাসাস।

অগোচরে এটি মানুষের ফোনে ঢুকে যায়। এরপর ২৪ ঘণ্টা ডিভাইসটিতে নজরদারি করে। ফোনে আসা কিংবা পাঠানো যে কোনো বার্তা কপি করতে পারে এবং কল রেকর্ড করে এটি।
ফোনের ব্যবহারকারীকে না জানিয়েই তার সব কর্মকাণ্ড রেকর্ড করতে পারে এই স্পাইওয়্যার। কথোপকথন রেকর্ড করতে মাইক্রোফোনও সক্রিয় করে দিতে পারে। আপনি কোথায় আছেন, কোথায় ছিলেন এবং কার সঙ্গে দেখা করেছেন, সবকিছুই ফোনের মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে।

পেগাসাস একটি হ্যাকিং সফটওয়্যার বা স্পাইওয়্যার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে যা বিক্রি করে যাচ্ছে ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও। আইওএস কিংবা অ্যাড্রয়েড পরিচালন ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি ফোনে ছড়িয়ে পড়তে পারে আড়িপাতার এই ম্যালওয়্যার।

প্যাগাসাসের আগের সংস্করণটি স্পিয়ার-ফিশিং-টেক্সট ম্যাসেজ কিংবা ইমেলের মাধ্যমে মানুষের ফোনে ঢুকে পড়েছিল। ফিশিং বলতে ক্ষতিকর ওয়েবসাইটের লিংকে কাউকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করাকে বোঝায়। পরে ওই লিংকের মাধ্যমে ফোন কিংবা কম্পিউটারের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতারণার মাধ্যমে কারো কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ব্যবহারকারী নাম ও পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করাই ইন্টারনেটে ফিশিং। ধোঁকাবাজরা এই পদ্ধতিতে কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট সেজে মানুষের কাছ থেকে তথ্য চুরি করে। ইমেইল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজের মাধ্যমে সাধারণত ফিশিং করা হয়ে থাকে।
কিন্তু এ সময়ে এসে মোবাইল ফোনে এনএসও’র হানা দেওয়ার সক্ষমতা আরও উন্নত হয়েছে। কথিত ‘জিরো-ক্লিকের’ মাধ্যমেও এটা করা সম্ভব। ফিশিং পদ্ধতিতে ফোনে ঢুকতে ব্যবহারকারীর নিজের সংশ্লিষ্টতা থাকত। অর্থাৎ যিনি ফোন ব্যবহার করছেন, তাকে ফিশিংয়ের মাধ্যমে পাঠানো ওয়েবসাইটে ক্লিক করতে হতো।
কিন্তু ‘জিরো-ক্লিক’ তার কোনো দরকার পড়ে না। ফোন ব্যবহারকারীর অজ্ঞাতসারেই তা ডিভাইসে ঢুকে গিয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করতে পারে। এতে ফোনের ‘জিরো-ডে’ ঝুঁকির অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এমন একটি ঝুঁকি, যেটা মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারীরা নিজেরাও জানেন না। যে কারণে বাজারে ছাড়ার পরেও ফোনের এই ঝুঁকি তারা দূর করতে পারেন না।
এছাড়া আইম্যাসেজ কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো যেসব সফটওয়্যার আগে থেকেই যেসব ফোনে ইনস্টল করা থাকে, এনএসও সেগুলোকে অপব্যবহার করে স্পাইওয়্যার অনুপ্রবেশ করাতে পারে। ফোনে হানা দেওয়ার জন্য পেগাসাস এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও সফল হয়েছে।

পেগাসাস ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে যাদের ফোন নম্বরে আড়িপাতার সন্দেহ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস মঞ্জিলা পলা উদ্দিনও রয়েছেন। যে চার শতাধিক ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের ফোন নম্বর এই তালিকায় রয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ রাজনীতিবিদও রয়েছেন।

২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে এনএসও গ্রুপের গ্রাহক সরকারের নজরদারির জন্য বাছাই করা তালিকায় মঞ্জিলা পলার নম্বরও ছিল। ফাঁস হওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গার্ডিয়ান বলছে, এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের নম্বরগুলো আসার জন্য প্রধানত সংযুক্ত আরব আমিরাত দায়ী। এনএসও স্পাইওয়্যারে প্রবেশের সক্ষমতা যে ৪০টি দেশের রয়েছে, তার মধ্যে আমিরাত একটি।

দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মুখতুমকে এনএসও গ্রাহক বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম মুসলিম ও দ্বিতীয় এশীয় ব্যক্তি মঞ্জিলা পলা উদ্দিন। ২০১৯ সালে গার্ডিয়ানের ব্রিটেনে প্রভাবশালী মুসলিম নারীদের তালিকায় তার নাম এসেছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,